বিষাদ সিন্ধু — উদ্ধার পর্ব ১৬ প্রবাহ

পরিণাম কাহার না আছে? নিশার অবসান, দিনের সন্ধ্যা, পরমায়ুর শেষ, গর্ভের প্রসব, উপন্যাসের মিলন, নাটকের যবনিকা পতন, অবশ্যই আছে; পুণ্যের ফল, পাপের শাস্তি-ইহাও নিশ্চয়। সীমার আজ বন্দি! যে সীমারের নামে হৃদয় কাঁপিয়াছে, যে সীমার জগৎ কাঁদাইয়াছে-সেই সীমার আজ বন্দি! সেই সীমারের আজ পরিণাম ফল-শেষ দশা। মোহাম্মদ হানিফা, মস্‌হাব কাক্কা, গাজী রহমান এবং প্রধান প্রধান সেনাপতিদিগের … বিস্তারিত পড়ুন

» বিষাদ সিন্ধু—এজিদ-বধ পর্ব ০৩ প্রবাহ

দয়াময় ভগবান! তোমার কৌশল-প্রবাহ কখন কোন পথের কত ধারে যে অবিরত ছুটিতেছে, কৃপাবারি কখন কাহার প্রতি কত প্রকারে কত আকারে যে ঝরিতেছে তাহা নির্ণয় করিয়া বুঝিবার সাধ্য জগতে কাহারো নাই। সে লীলা-খেলার যথার্থ মর্ম কলমের মুখে আনিয়া সকলকে বুঝাইয়া দিবার ক্ষমতাও কোন কবির কল্পনায় নাই। কাল জয়নাল আবেদীন দামেস্ক কারাগারে এজিদ্হস্তে বন্দি, প্রাণভয়ে আকুল; আজ … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু — উদ্ধার পর্ব ১৭ প্রবাহ

মন্ত্রণাগৃহে এজিদ্ একা। দেখিলেই বোধ হয় যেন কোন বৃহৎ চিন্তায় এখন তাহার মস্তিষ্ক-সিন্ধু উথলিয়া উঠিয়াছে। দুঃখের সহিত চিন্তা,-এ চিন্তার কারণ কী? কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়া গৃহের চতুষ্পার্শে দৃষ্টি করিল;-দেখিল কেহ নাই! পূর্ব নির্দিষ্ট সময়ে মারওয়ান মন্ত্রণাগৃহে উপস্থিত থাকিবে; সময় উত্তীর্ণ হইয়াছে, তথাচ মন্ত্রীবর আসিতেছে না। এজিদের চিন্তাকুল অন্তর ক্রমেই অস্থির হইতেছে। দীর্ঘ নিঃশ্বাস পরিত্যাগ করিয়া মৃদুমৃদু … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু — উদ্ধার পর্ব ১৮ প্রবাহ

কী মর্মভেদী দৃশ্য! কী হৃদয়বিদারক বিষাদ ভাব! কাহারো মুখে কথা নাই, হর্ষের চিহ্ন নাই, যুদ্ধজয়ের নাম নাই, সীমারবধের প্রসঙ্গ নাই, অলীদ পরাজয়ের আলোচনা নাই। রাজা রাজবেশশূন্য, শির শিরস্ত্রাণশূন্য, পদ পাদুকাশূন্য, পরিধেয় নীলবাস,-বিষাদ-চিহ্ন নীলবাস। সৈন্যদলে বাজনা বাজিতেছে না, তুরি-ডঙ্কার আর শব্দ হইতেছে না। “নকীব” উষ্ট্রপৃষ্ঠে বসিয়া ভেরীরবে ভূপতিগণের শুভাগমনবার্তা আর ঘোষণা করিতেছে না। সকলেই পদব্রজে-সকলেই ম্লানমুখে-নীরবে। … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু — উদ্ধার পর্ব ০৩ প্রবাহ

সময়ে সকলই সহ্য হয়। কোন বিষয়ে অনভ্যাস থাকিলে বিপদকালে তাহার অভ্যাস হইয়া পড়ে, মহা সুখের শরীরেও মহা কষ্ট সহ্য হইয়া থাকে-এ কথার মর্ম হঠাৎ বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিমাত্রেই বুঝিতে পারিবেন। পরাধীন জীবনে সুখের আশা করাই বৃথা। বন্দি অবস্থায় ভাল-মন্দ সুখ-দুঃখ বিবেচনা করাও নিষ্ফল। চতুর্দিকে নিষ্কোষিত অসি, ত্বরিৎগতি বিদ্যুতের ন্যায় বর্শাফলক, সময়ে সময়ে চক্ষে ধাঁধা দিতেছে। বন্দিগণ মলিনমুখ … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু — উদ্ধার পর্ব ০৪ প্রবাহ

কথা চাপিয়া রাখা বড়ই কঠিন। কবিকল্পনার সীমা পর্যন্ত যাইতে হঠাৎ কোন কারণে বাধা পড়িলে মনে ভয়ানক ক্ষোভের কারণ হয়। সমাজের এমনই কঠিন বন্ধন, এমনই দৃঢ় শাসন যে কল্পনাকুসুমে আজ মনোমত হার গাঁথিয়া পাঠক-পাঠিকাগণের পবিত্র গলায় দোলাইতে পারিলাম না। শাস্ত্রের খাতিরে নানা দিক লক্ষ্য রাখিতে হইতেছে! হে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান ভগবান্! সমাজের মূর্খতা দূর কর। কুসংস্কার তিমির … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু — উদ্ধার পর্ব ০৫ প্রবাহ

স্বাধীন – কি মধুমাখা কথা! স্বাধীন জীবন কি আনন্দময়! স্বাধীন দেশ আরামের স্থান! স্বাধীন ভাবের কথাগুলি কর্ণকুহরে প্রবেশ করিলে হৃদয়ের সূক্ষ্ম শিরা পর্যন্ত আনন্দোচ্ছ্বাসে স্ফীত হইয়া উঠে এবং অন্তরে বিবিধ ভাবের উদয় হয়। হয় মহাহর্ষে মন নাচিতে থাকে, না হয় মহাদুঃখে অন্তর ফাটিয়া যায়। স্বাধীন মন, স্বাধীন জীবন, পরাধীন স্বীকার করিতে যেরূপ কষ্ট বোধ করে, … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু — উদ্ধার পর্ব ০৬ প্রবাহ

যে নগরে সুখসাগরে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ খেলা করিতেছিল, মহানন্দের স্রোত বহিতেছিল; রাজপ্রাসাদ, রাজপথ, প্রধান প্রধান সৌধ আলোকমালায় পরিশোভিত হইয়াছিল; ঘরে ঘরে নৃত্য, গীত, বাজনার ধুম পড়িয়াছিল, রঙ্গিন পতাকা সকল হেলিয়া-দুলিয়া জয়সূচক চিহ্ন দেখাইতেছিল;-হঠাৎ সমুদয় বন্ধ হইয়া গেল! মুহূর্তমধ্যে মহানন্দবায়ু থামিয়া বিষাদ-ঝটিকা-বেগ রহিয়া রহিয়া বহিতে লাগিল। মাঙ্গলিক পতাকারাজি নতশিরে হেলিতে-দুলিতে পড়িয়া গেল। রাজপ্রাসাদের বাদ্যধ্বনি, নূপুরের ঝন্‌ঝনি, … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু — উদ্ধার পর্ব ০৭ প্রবাহ

তোমার এ দুর্দশা কেন? কোন কুক্রিয়ার ফলে তোমার এ দশা ঘটিয়াছে? যখন পাপ করিয়াছিলে, তখন কি তোমার মনে কোন কথা উদয় হয় নাই? এখন লোকালয়ে মুখ দেখাইতে এত লজ্জা কেন? খোল, খোল, মুখের আবরণ খোল; দেখি কি হইয়াছে। চিরপাপী পাপপথে দণ্ডায়মান হইলে হিতাহিত জ্ঞান অণুমাত্রও তাহার অন্তরে উদয় হয় না। যেন-তেন প্রকারেণ পাপকূপে ডুবিতে পারিলেই … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু — উদ্ধার পর্ব ০৮ প্রবাহ

কী চমৎকার দৃশ্য! মহাবীর মোহাম্মদ হানিফা অশ্ব-বল্গা সজোরে টানিয়া অশ্ব-গতিরোধ করিয়াছেন। গ্রীবা বক্র, দৃষ্টি পশ্চাৎ-কারণ সৈন্যগণ কতদূরে তাহাই লক্ষ্য। অশ্ব সম্মুখস্থ পদদ্বয় কিঞ্চিৎ বক্রভাবে উত্তোলন করিয়া দণ্ডায়মান। একপার্শ্বে মদিনার কাসেদ। হানিফার চক্ষু জলে পরিপূর্ণ। দেখিতে দেখিতে অর্ধচন্দ্র এবং পূর্ণতারা সংযুক্ত নিশান হেলিয়া-দুলিয়া ক্রমেই নিকটবর্তী হইল। গাজী রহমান উপস্থিত প্রভুর সজল চক্ষু, মুখভাব মলিন, নিকটে অপরিচিত … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!