চোখের বালি–পঞ্চম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  কিছুকাল অনাবৃষ্টিতে যে শস্যদল শুষ্ক পীতবর্ণ হইয়া আসে, বৃষ্টি পাইবামাত্র সে আর বিলম্ব করে না; হঠাৎ বাড়িয়া উঠিয়া দীর্ঘকালের উপবাসদৈন্য দূর করিয়া দেয়, দুর্বল নত ভাব ত্যাগ করিয়া শস্যক্ষেত্রের মধ্যে অসংকোচে অসংশয়ে আপনার অধিকার উন্নত ও উজ্জ্বল করিয়া তোলে, আশার সেইরূপ হইল। যেখানে তাহার রক্তের সম্বন্ধ ছিল, সেখানে সে কখনো আত্মীয়তার দাবি করিতে পায় … বিস্তারিত পড়ুন

গল্পস্মৃতি–আমীরুল ইসলাম

    ধ্রুব আর ছবি আঁকবে না মৃত্তিকাকে চেনো? লম্বা ছিপছিপে মেয়েটা। বাঁশির মতো খাড়া নাক। ঘন-কালো চুল। ঠোঁটের ফাঁকে সব সময় আঙুল দিয়ে রাখে। আর টান টান করে হেসে হেঁটে বেড়ায় পাক্কা কথা বলে। মৃত্তিকা মানে মাটি। কিন্তু ওর নাম মাটি কেন? কারণ ওর বাবা একজন নামকরা কবি। মৃত্তিকা সেই কবির একমাত্র মেয়ে। কবি … বিস্তারিত পড়ুন

রুপোর চামচ—তিলোত্তমা মজুমদার

  বড় সংস্থার বড়মাপের কর্মকর্তা। সংসারে কোনো কিছুর অভাব তো নেই-ই, বরং নানা সামগ্রীর আধিক্য চোখে ধাঁধা লাগিয়ে দেয়। তবু, বিমানে পরিবেশিত খাবারের থালা থেকে তিনি তুলে নিলেন কারুকার্যময় চামচখানি। ঠান্ডা মালাই খাওয়ার জন্য দিয়েছিল। রুপোর চামচ। সত্যিই রুপোর নাকি? লোকে তো তাই বলে। এই বিমানে আইসক্রিম খাওয়ার চামচটি রুপোর। এদিক-ওদিক তাকিয়ে তিনি সেটি পকেটস্থ … বিস্তারিত পড়ুন

আমি মৃত্যুর কথা ভাবি————বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

  মৃত্যুর সঙ্গে বসবাস সহজ নয়। মৃত্যু একটা অপার্থিব অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা প্রত্যহ ঘটে না। এই অভিজ্ঞতার বাস্তবতা যত বেশি এড়িয়ে থাকা যায়, তত জীবনযাপন স্বাভাবিক থাকে। বিকেলে ঘুরে বেড়ানো আমার নেশা। ভালোই লাগে গাছপালার মধ্যে ঘুরে বেড়াতে। একদিন আমি বেড়িয়ে ফিরেছি। আকাশ কালো হয়ে উঠেছে। হয়তো তুষার পড়বে। আমার গন্তব্যে পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে … বিস্তারিত পড়ুন

অমীমাংসিত———-মণিকা চক্রবর্তী

  গতকাল বিকেলে ঢাকা এয়ারপোর্টে বিমান থেকে নামার পর থেকেই মামুনের চারপাশটা ক্রমেই একপাল মানুষের ভিড়ে ভরে উঠছে। নিজের মুখটাও ভালো করে দেখার সময় হচ্ছে না। অথচ ভেতরে ভেতরে চিন্তাটা লুকিয়ে থাকা নখের চিমটির মতো একটু পরপরই চিমটি কেটে যাচ্ছে। মহসিন ওরফে মতির বাসায়ই সে সরাসরি উঠেছে। মতির বাসা যাত্রাবাড়ী। পুরনো আমলের একতলা বাড়িতে স্যাঁতসেঁতে … বিস্তারিত পড়ুন

খলীফা ফরমাশ খাটলেন——আমরা সেই সে জাতি –– আবুল আসাদ

খলীফা মামুনের প্রাসাদ। তাঁর প্রাসাদে অতিথি এসেছেন। অতিথি জ্ঞানী ইয়াহইয়া। মেহমান-মেজবান আলোচনায় রত। গভীর রাত। মোমবাতির পিঠা আলো জ্বলেছে ঘরে। অতিথির পিপাসা পেয়েছে। পানির জন্য উৎসুক হয়ে এদিক ওদিক খুঁজতেই খলীফা মামুন জিজ্ঞেস করলেন, “কি চাই আপনার?” অতিথি ইয়াহইয়া তাঁর তৃষ্ণার তখা জানালেন। শুনেই খলীফা উঠে দাঁড়ালেন পানি আনার জন্য। ইয়াহইয়া ব্যস্ত হয়ে খলীফাকে অনুরোধ … বিস্তারিত পড়ুন

এক দিন অনেক রাত —- দিব্যেন্দু পালিত

তেমন কোনও কাজ ছিল না বলে কমপিউটার খুলে বসেছিল নীলা। তাতেও যে খুব মন লাগছিল তা নয়, আজকাল যে-কোনও কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই সে উল্টোপাল্টা ভাবে। দুপুরে এক বার দেখেছিল, এখনও দেখল ই-মেলে কোনও মেসেজ নেই। তাতে হতাশ হলেও দুঃখিত হল না সে। কে-ই বা পাঠাবে! শেষ মেসেজ পাঠিয়েছিল তার দাদা হিন্দোল, কাল বিকেলে, এখানে … বিস্তারিত পড়ুন

দেবদাস – শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়– ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ

পিতার মৃত্যুর পর ছয় মাস ধরিয়া ক্রমাগত বাটীতে থাকিয়া, দেবদাস একেবারে জ্বালাতন হইয়া উঠিল। সুখ নাই, শান্তি নাই, একান্ত একঘেয়ে জীবন।তার উপর ক্রমাগত পার্বতীর চিন্তা; আজকাল সব কাজেই তাহাকে মনে পড়ে। আর, ভাই দ্বিজদাস এবং পতিব্রতা ভ্রাতৃজায়া দেবদাসের জ্বালা আরও বাড়াইয়া তুলিলেন। গৃহিণীর অবস্থাও দেবদাসের ন্যায়। স্বামীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর সমস্ত সুখই ফুরাইয়া গিয়াছে। … বিস্তারিত পড়ুন

দেবদাস – শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়– চতুর্দশ পরিচ্ছেদ

বৎসর-দুই হইল পার্বতী মহেন্দ্রের বিবাহ দিয়া অনেকটা নিশ্চিন্ত হইয়াছে। জলদবালা বুদ্ধিমতী ও কর্মপটু। পার্বতীর পরিবর্তে সংসারের অনেক কাজ সে-ই করে। পার্বতী এখন অন্যদিকে মন দিয়াছে। আজ পাঁচ বৎসর হইল তাহার বিবাহ হইয়াছে, কিন্তু সন্তান হয় নাই। নিজের ছেলেপুলে নাই বলিয়া পরের ছেলেমেয়েদের উপর তাহার বড় টান। গরীব-দুঃখীর কথা দূরে থাক, যাহাদের কিছু সংস্থান আছে, তাহাদিগের … বিস্তারিত পড়ুন

দেবদাস – শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়– পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ

আজ দুই বৎসর হইতে অশথঝুরি গ্রামে চন্দ্রমুখী ঘর বাঁধিয়াছে। ছোট নদীর তীরে একটা উঁচু জায়গায় তাহার ঝরঝরে দু’খানি মাটির ঘর; পাশে একটা চালা, তাহাতে কালো রংয়ের একটা পরিপুষ্ট গাভী বাঁধা থাকে। ঘর-দুইটির একটিতে রান্না, ভাঁড়ার; অপরটিতে সে শোয়। উঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, রমা বাগদীর মেয়ে রোজ নিকাইয়া দিয়া যায়। চতুর্দিকে ভেরেণ্ডার বেড়া, মাঝখানে একটা কুলগাছ, আর একপাশে … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!