চোখের বালি–পঞ্চাশতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

স্টেশনে আসিয়া বিনোদিনী একেবারে ইণ্টারমিডিয়েট ক্লাসে মেয়েদের গাড়িতে চড়িয়া বসিল। মহেন্দ্র কহিল, “ও কী কর, আমি তোমার জন্য সেকেণ্ড ক্লাসের টিকিট কিনিতেছি।” বিনোদিনী কহিল, “দরকার কী, এখানে আমি বেশ থাকিব।” মহেন্দ্র আশ্চর্য হইল। বিনোদিনী স্বাভাবতই শৌখিন ছিল। পূর্বে দারিদ্রের কোনো লক্ষণ তাহার কাছে প্রীতিকর ছিল না; নিজের সাংসারিক দৈন্য সে নিজের পক্ষে অপমানকর বলিয়াই মনে … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–একান্নতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  হিমালয়শিখর যে যমুনাকে তুষারস্রুত অক্ষয় জলধারা দিতেছে, কতকালের কবিরা মিলিয়া সেই যমুনার মধ্যে যে কবিত্বস্রোত ঢালিয়ছেন, তাহাও অক্ষয়। ইহার কলধ্বনির মধ্যে কত বিচিত্র ছন্দ ধ্বনিত এবং ইহার তরঙ্গলীলায় কতকালের পুলকোচ্ছ্বসিত ভাবাবেগ উদ্‌বেলিত হইয়া উঠিতেছে। প্রদোষে সেই যমুনাতীরে মহেন্দ্র আসিয়া যখন বসিল, তখন ঘনীভূত প্রেমের আবেশ তাহার দৃষ্টিতে, তাহার নিশ্বাসে, তাহার শিরায়, তাহার অস্থিগুলির মধ্যে … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–বায়ান্নতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সমস্ত রাত্রি মহেন্দ্র ঘুমায় নাই– ক্লান্তশরীরে ভোরের দিকে তাহার ঘুম আসিল। বেলা আটটা-নয়টার সময় জাগিয়া তাড়াতড়ি উঠিয়া বসিল। গতরাত্রির একটা কোনো অসমাপ্ত বেদনা ঘুমের ভিতরে ভিতরে যেন প্রবাহিত হইতেছিল। সচেতন হইবামাত্র মহেন্দ্র তাহার ব্যথা অনুভব করিতে আরম্ভ করিল। কিছুক্ষণ পরেই রাত্রির সমস্ত ঘটানাটা মনে স্পষ্ট জাগিয়া উঠিল। সকালবেলাকার সেই রৌদ্রে, অতৃপ্ত নিদ্রার ক্লান্তিতে সমস্ত জগৎটা … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–তেপান্নতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  মহেন্দ্র তাহার মাতার ঘরে প্রবেশ করিতে যাইতেছে, তখন আশা তাড়াতাড়ি বাহির হইয়া আসিয়া কহিল, “ এখন ও-ঘরে যাইয়ো না।” মহেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিল, “কেন।” আশা কহিল, “ডাক্তার বলিয়াছেন হঠাৎ মার মনে, সুখের হউক, দুঃখের হউক একটা কোনো আঘাত লাগিলে বিপদ হইতে পারে।” মহেন্দ্র কহিল, “আমি একবার আস্তে আস্তে তাঁহার মাথার শিয়রের কাছে গিয়া দেখিয়া আসি … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–চুয়ান্নতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  ভালোয়-মন্দয় দুই-তিন দিন রাজলক্ষ্মীর কাটিয়া গেল। একদিন প্রাতে তাঁহার মুখ বেশ প্রসন্ন ও বেদনা সমস্ত হ্রাস হইল। সেই দিন তিনি মহেন্দ্রকে ডাকিয়া কহিলেন, “আর আমার বেশিক্ষণ সময় নাই– কিন্তু আমি বড়ো সুখে মরিলাম মহিন, আমার কোনো দুঃখ নাই। তুই যখন ছোটো ছিলি, তখন তোকে লইয়া আমার যে আনন্দ ছিল, আজ সেই আনন্দে আমার বুক … বিস্তারিত পড়ুন

চোখের বালি–পঞ্চান্নতম অংশ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  রাজলক্ষ্মীর মৃত্যু হইলে পর শ্রাদ্ধশেষে মহেন্দ্র কহিল, “ ভাই বিহারী, আমি ডাক্তারি জানি– তুমি যে-কাজ আরম্ভ করিয়াছ, আমাকেও তাহার মধ্যে নাও। চুনি যেরূপ গৃহিণী হইয়াছে সেও তোমার অনেক সহায়তা করিতে পারিবে। আমরা সকলে সেইখানেই থাকিব।” বিহারী কহিল, “মহিনদা, ভালো করিয়া ভাবিয়া দেখো– এ কাজ কি বরাবর তোমার ভালো লাগিবে? বৈরাগ্যের ক্ষণিক উচ্ছ্বাসের মুখে একটা … বিস্তারিত পড়ুন

বউ-ঠাকুরানীর হাট–প্রথম পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  রাত্রি অনেক হইয়াছে। গ্রীষ্মকাল। বাতাস বন্ধ হইয়া গিয়াছে। গাছের পাতাটিও নড়িতেছে না। যশোহরের যুবরাজ, প্রতাপাদিত্যের জ্যেষ্ঠ পুত্র, উদয়াদিত্য তাঁহার শয়নগৃহের বাতায়নে বসিয়া আছেন। তাঁহার পার্শ্বে তাঁহার স্ত্রী সুরমা। সুরমা কহিলেন, “প্রিয়তম, সহ্য করিয়া থাকো, ধৈর্য ধরিয়া থাকো। একদিন সুখের দিন আসিবে।” উদয়াদিত্য কহিলেন, “আমি তো আর-কোনো সুখ চাই না। আমি চাই, আমি রাজপ্রাসাদে না … বিস্তারিত পড়ুন

বউ-ঠাকুরানীর হাট–দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মন্ত্রী কহিলেন, “মহারাজ, কাজটা কি ভালো হইবে?” প্রতাপাদিত্য জিজ্ঞাসা করিলেন, “কোন্‌ কাজটা?” মন্ত্রী কহিলেন, “কাল যাহা আদেশ করিয়াছিলেন।” প্রতাপাদিত্য বিরক্ত হইয়া কহিলেন, “কাল কী আদেশ করিয়াছিলাম?” মন্ত্রী কহিলেন, “আপনার পিতৃব্য সম্বন্ধে।” প্রতাপাদিত্য আরও বিরক্ত হইয়া কহিলেন, “আমার পিতৃব্য সম্বন্ধে কী?” মন্ত্রী কহিলেন, “মহারাজ আদেশ করিয়াছিলেন, যখন বসন্ত রায় যশোহরে আসিবার পথে শিমুলতলির চাটিতে আশ্রয় লইবেন … বিস্তারিত পড়ুন

বউ-ঠাকুরানীর হাট–তৃতীয় পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিজন পথ দিয়া বিদ্যুদ্‌‍বেগে যুবরাজ অশ্ব ছুটাইয়া চলিয়াছেন। অন্ধকার রাত্রি, কিন্তু পথ দীর্ঘ সরল প্রশস্ত বলিয়া কোনো ভয়ের আশঙ্কা নাই। স্তব্ধ রাত্রে অশ্বের খুরের শব্দে চারিদিক প্রতিধ্বনিত হইতেছে, দুই-একটি কুকুর ঘেউ-ঘেউ করিয়া ডাকিয়া উঠিতেছে, দুই-একটা শৃগাল চকিত হইয়া পথ ছাড়িয়া বাঁশঝাড়ের মধ্যে লুকাইতেছে। আলোকের মধ্যে আকাশের তারা ও পথপ্রান্তস্থিত গাছে জোনাকি; শব্দের মধ্যে ঝিঁঝিঁ পোকার … বিস্তারিত পড়ুন

বউ-ঠাকুরানীর হাট–চতুর্থ পরিচ্ছেদ– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিজন পথের ধারে অশথ গাছের তলায় বাহকশূন্য ভূতলস্থিত এক শিবিকার মধ্যে বৃদ্ধ বসন্ত রায় বসিয়া আছেন। কাছে আর কেহ নাই, কেবল একটি পাঠান শিবিকার বাহিরে। একটা জনকোলাহল দূরে মিলাইয়া গেল। রজনী স্তব্ধ হইয়া গেল। বসন্ত রায় জিজ্ঞাসা করিলেন, “খাঁ সাহেব, তুমি যে গেলে না ?” পাঠান কহিল, “হুজুর, কী করিয়া যাইব ? আপনি আমাদের ধনপ্রাণ … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!