বিষাদ সিন্ধু —উদ্ধার পর্ব ২৩ প্রবাহ

প্রভাত হইল। পাখীরা ঈশ-গান গাহিতে গাহিতে জগৎ জাগাইয়া তুলিল। অরুণোদয়ের সহিত যুদ্ধ-নিশান দামেস্ক-প্রান্তরে উড়িতে লাগিল। যে মস্তক জয়নাবের কর্ণাভরণের দোলায় দুলিয়াছিল ঘুরিয়াছিল, এখনও দুলিতেছে, ঘুরিতেছে), আজ সেই মস্তক হানিফার অস্ত্র চালনার কথা মনে করিয়া মহাবিপাকে ঘুরিতে লাগিল। সঙ্গে সঙ্গে মারওয়ান, অলীদ, জেয়াদ, ওমরের মস্তিষ্ক পরিশুষ্ক; সৈন্যগণের হৃদয়ে ভয়ের সঞ্চার-না জানি আবার কি ঘটে! উভয় পক্ষই … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু —উদ্ধার পর্ব ২৪ প্রবাহ

আজ ওমর আলীর প্রাণবধ। এ সংবাদে কেহ দুঃখী, কেহ সুখী। নগরবাসীরা কেহ ম্লান মুখে বধ্যভূমিতে যাইতেছে-কেহ মনের আনন্দে হাসি রহস্যে নানা কথার প্রসঙ্গে বধ্যভূমিতে উপস্থিত হইতেছে। শূলদণ্ড দণ্ডায়মান হইয়াছে। স্বপক্ষ বিপক্ষ সৈন্যদল ওমর আলীর বধক্রিয়া স্পষ্টভাবে দেখিতে পায়, মন্ত্রী মারওয়ান সে উপায় বিশেষ বিবেচনা করিয়া করিয়াছে। দিনমণির আগমনসহ নাগরিকদল দলে দলে দামেস্ক-প্রান্তরে আসিয়া একত্রিত হইতে … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু —উদ্ধার পর্ব ২৫ প্রবাহ

মানবের ভাগ্যবিমানে দুঃখময় কালমেঘ দেখা দিলে, সে দিকে কাহারো দৃষ্টি পড়ে না, ভ্রমেও কেহ ফিরিয়া দেখে না। ভাল মুখে দু’টি ভাল কথা বলিয়া তাহার তাপিত প্রাণ শীতল করা দূরে থাকুক, মুখ ফুটিয়া কথা কহিতেও ঘৃণা জন্মে, সে দিকে চক্ষু তুলিয়া চাহিতেও অপমান জ্ঞান হয়। সে উপযাচক হইয়া মিশিতে আসিলেও নানা কৌশলে তাড়াইতে ইচ্ছা করে। আত্মীয়-স্বজন, … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু —উদ্ধার পর্ব ২৬ প্রবাহ

এক দুঃখের কথা শেষ না-হইতেই আর একটি কথা শুনিতে হইল। জয়নাল আবেদীনকে অদ্যই শূলে চড়াইয়া জেয়াদের প্রতিশোধ লইব, এজিদের এই প্রতিজ্ঞা। জয়নাল বন্দিগৃহে নাই, একথা এজিদ্পক্ষীয় একটি প্রাণীও অবগত নহে। মারওয়ান কারাগারের বহির্দ্বারে উপস্থিত হইয়া প্রহরীকে অনুমতি করিল, “তোমরা কয়েকজন জয়নালকে ধরিয়া আন! সাবধান, আর কাহাকেও কিছু বলিয়ো না।” মন্ত্রীবরের আজ্ঞায় প্রহরিগণ কারাগারমধ্যে প্রবেশ করিল। … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু — উদ্ধার পর্ব ২৭ প্রবাহ

রজনী দ্বিপ্রহর। তিথির পরিভাগে বিধুর অনুদয়, কিন্তু আকাশ নক্ষত্রমালায় পরিশোভিত। মহা কোলাহলপূর্ণ সমর-প্রাঙ্গণ এক্ষণে সম্পূর্ণভাবে নিস্তব্ধ। দামেস্ক প্রান্তরে প্রাণীর অভাব নাই। কিন্তু প্রায় সকলেই নিদ্রার কোলে অচেতন। জাগে কে?-প্রহরীদল, সন্ধানী দল, আর উভয় পক্ষের মন্ত্রীদল! মন্ত্রীদল মধ্যেও কেহ কেহ আলস্যের পরিভোগে চক্ষু মুদিয়া চিন্তায় নিমগ্ন হইতেছেন, কেহ দিবাভাগে সেই অভাবনীয় ঘটনার কোন কোন অংশ ভাবিয়া … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু — উদ্ধার পর্ব ২৮ প্রবাহ

রাজার দক্ষিণহস্ত মন্ত্রী, বুদ্ধি মন্ত্রী-বল মন্ত্রী! মন্ত্রীপ্রবর গাজী রহমানের চক্ষেও আজ নিদ্রা নাই, এ কথা সপ্তবিংশতি প্রবাহের আরম্ভেই প্রকাশ করা হইয়াছে। গাজী রহমান এক্ষণে মহাব্যস্ত। নিশা প্রায় শেষ হইয়া আসিল, গুপ্তচরেরা এ পর্যন্ত ফিরিয়া আসে নাই। আজিকার সংবাদ, দামেস্ক নগরের সংবাদ-এজিদ্ শিবিরের নূতন সংবাদ এ পর্যন্ত কোন সংবাদই প্রাপ্ত হইতে পারেন নাই। দ্বিতীয় দিনে শিবির … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু — উদ্ধার পর্ব ২৯ প্রবাহ

মদ্যপায়ীর সুখে-দুঃখে সমান ভাব। সকল অবস্থাতেই মদের প্রয়োজন। মনকে প্রফুল্ল করিতে, মনের দুঃখ দূর করিতে; মনে কিছুই নাই অর্থাৎ কালি নাই, বালি নাই, ময়লা নাই, একেবারে সাদা-সে সময়ও মদের প্রয়োজন। গগনে শুকতারা দেখা গিয়াছে-প্রভাত নিকটে। এজিদের চক্ষে ঘুম নাই, ক্রমে পেয়ালা পূর্ণ করিতেছে, উদরে ঢালিতেছে। কিছুতেই মন প্রফুল্ল হয় না, আনন্দও জন্মে না-মনের চিন্তাও দূর … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু —উদ্ধার পর্ব ৩০ প্রবাহ

তমোময়ী নিশা, কাহাকে হাসাইয়া, কাহাকে কাঁদাইয়া, কাহারো সর্বনাশ করিয়া যাইবার সময় স্বাভাবিক হাসিটুকু হাসিয়া চলিয়া গেল। মোহাম্মদ হানিফার শিবিরে ঈশ্বর উপাসনার ধুম পড়িয়া গেল। নিশার গমন, দিবাকরের আগমন-এই সংযোগ বা শুভসন্ধি সময়ে, সকলের মুখে ঈশ্বরের নাম-সেই অদ্বিতীয় দয়াল প্রভুর নাম-নূরনবী মোহাম্মদের নাম সহস্র প্রকারে সহস্র মুখে। নিশার ঘটনা, নিশাবসান না-হইতেই গাজী রহমান প্রধান প্রধান যোধ … বিস্তারিত পড়ুন

বিষাদ সিন্ধু — উদ্ধার পর্ব ১৪ প্রবাহ

হায়! হায়! এ আবার কী? এ দৃশ্য কেন চক্ষে পড়িল? উহু! কী ভয়ানক ব্যাপার। উহু! কী নিদারুণ কথা! এ প্রবাহ না লিখিলে কী “উদ্ধার-পর্ব” অসম্পূর্ণ থাকিত, না বিষাদ-সিন্ধুর কোন তরঙ্গের হীনতা জন্মিত? বৃদ্ধি নাই, তাই সীমারের বন্ধনে মনে মনে একটু সুখী হইয়াছিলাম। কিন্তু এখন যে প্রাণ যায়! এ বিষাদ-প্রবাহে এখন যে প্রাণ যায়! হায়! হায়! … বিস্তারিত পড়ুন

» বিষাদ সিন্ধু—এজিদ-বধ পর্ব ০১ প্রবাহ

বন্দিগৃহ! বন্দিগৃহ সুবর্ণে নির্মিত, মহামূল্য প্রস্তরে খচিত, সুখসেব্য আরামের উপকরণে সুসজ্জিত হইলেও মহাকষ্টপ্রদ-যন্ত্রণাস্থান। সুখ-সম্ভোগের সুখময় সামগ্রী দ্বারা পরিপূরিত হইলেও বন্দিগৃহ, দেহদগ্ধকারী মহাকষ্টপ্রদ জ্বলন্ত অগ্নিময় নরকনিবাস। সুবর্ণ পাত্রে সুস্বাদু সুমিষ্ট সরস খাদ্য-পরিপূরিত রসনা পরিতৃপ্ত করিতে, সুন্দর বন্দোবস্তের সহিত সুব্যবস্থা থাকিলেও বন্দিগৃহ মহাকাল যমালয়। কোন বিষয়ের অভাব-অনটন না হইলেও সর্বতোভাবে মশান হইতে শ্মশান আদরের। অমূল্য রত্ন স্বাধীনতাধন … বিস্তারিত পড়ুন

দুঃখিত!