ফুক ফুক করে বিড়ি টানছিল গনশা। ঘোতনার ওপর ভীষণ রাগ হচ্ছিলো। কলকীর সঙ্গে তার ভাব ঘোতনা জানে। তবু কি দরকার কলকীরে ফুসলাবার ? গণশা নিজের মনে গর্জে ওঠে—ঘোতনা,তরে এমন কড়ইকে দেব, বাপের নাম ভুইলে যাবি!
গনশার ঘর নাই, ফুটপাতে তার রাত্রি বাস। গতর খেটে দিনান্তে যা পায় তাতে শরীর বেঁচে যায়।
কলকী তার মার সঙ্গে ভিক্ষা করে। গনেশের দিকে তাকিয়ে খুব হাসে। একদিন গনশা ওকে চোখ মেরে ছিল। উরে বাস, কলকীর কি সুন্দর মুখের হাবভাব, গনশারে চোখ মারল ! তারপর থেকেই ভাব, কথাবার্তা এবং ভালবাসা !
গনশা একটা চকলেট পেয়েছিল, নিজে না খেয়ে কলকীকে দেবে বলে রেখে দিয়েছে। ও চেয়ে ছিল নিজের হাতে চকোলেটটা কলকীর মুখে ঢুকিয়ে দেবে। আর সেই সুযোগে কলকীর চকলেট খাওয়া ঠোঁটে চুমু খাবে।
সেদিন দুপুরে মল্লিকদের বাড়ির বার বারান্দায় বসে ঝিমাচ্ছিল গনশা । হঠাৎ তার নজরে পড়ল ঘোতনার সাথে কলকী কোথাও যাচ্ছে। ঝিম ছুটে গেল তার। হারামজাদা ঘোতনা, আমার মালরে তুই–নিজে নিজে কথাগুলি আওড়ে নিয়ে গণশা ছুটল কলকী ঘোতনার পিছে। সেনেদের আম বাগানে সে দুজনকে ঢুকতে দেখল। গনশা স্পষ্ট দেখল, কলকীরে চুমা খাচ্ছে ঘোতনা। একবার, দুইবার, তিনবার। গণশা দৌড়ে গিয়ে ঘোতনার জামার কলার টেনে ধরে মুখ প্যাঁচিয়ে মারল দুই ঘুষি। ঘোতনা ঘোঁত ঘাঁত কিছুই করলো না। ও জানে গনশার মাল কলকী।
গনশা ভীষণ রেগে কলকীকে বলল, তুই ঘোতনার চুমা খাচ্ছিলি কেন্ ?
কলকী চুপ করে থাকে।
–ক, ক, তরে আমি ভালোবাসি, তুই ঘোতনার সঙ্গে কেন্ ক ?
কলকী এবার মুখ খোলে, কি হইছে তাতে ?
–কিছু হয় নাই ? আশ্চর্য হয় গনশা।
কলকী অবলীলাক্রমে বলে ওঠে, তুইও দে না আমায় চুমু ! তবে হ্যাঁ যতগুলা চুমা দিবি ততগুলা টাকা চাই কিন্তু !
গনশা অবাক হয়ে কলকীর দিকে তাকায়। ও রাগে ফুঁসে ওঠে, না, না, তুই আমার–
কলকী স্বাভাবিক গলায় বলে ওঠে, ভিখারীর মাইয়া এক জনের হয় না রে, আমি তর, ঘোতনার, সবাইর–
"আলোর পথ"-এ প্রকাশিত গল্পসমূহ ও লেখনী মূলত পাঠক, শুভাকাংখী এবং সম্মানিত আবেদনকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কনটেন্টগুলোর উপর আমরা কোনো মেধাসত্ত্ব (copyright) দাবি করি না। যদি কোনো গল্প, ছবি বা তথ্যের কপিরাইট সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার প্রশ্ন, সংশয় বা আপত্তি থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে আমাদের যোগাযোগ পৃষ্ঠায় যোগাযোগ করুন। আমরা যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।