স্বপ্ননীলের নাম মঙ্গলু বাইগা, অতসীর নাম রুপাইনি। বাইগাচক। মধ্যপ্রদেশের মান্ডলা জেলা। জঙ্গলের বাইগা গ্রাম। রেওয়া চাষ,ঝূম চাষ আর হরিণ, বুনো শুয়োর শিকার। গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজ। নিজেদের সমাজের বাইরে মেলামেশা বড় একটা নেই। দলবেঁধে বেওয়ার চাষ করে নারী পুরুষ। জঙ্গলের গাছ কাটে তারা, তারপর শুকনো ডালপালায় আগুন ধরায়। তারপর প্রথম বরষায় সেই ছাইমাটি ভিজে গেলে, ফসল ফলায় তাতে। মেয়েরা চাষে সাহায্য করে সমান হাতে, তবে ফসল বোনে না, তারা ফসল ফলায় গর্ভে। মেয়ে মরদ মহুয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। কাঁখে-কাঁখে হাতে-হাতে নাচে পর্ধাউনি ।
এ গল্প পঞ্চাশ/পঞ্চান্ন বছর আগের। তখনো মধ্যপ্রদেশ ছত্তিশগড় হয়নি। তখনো নকশাল-সরকার-দক্ষিণপন্থী-বামপন্থী রাজনৈতিক ডামাডোল সুরু হয়নি। বাইগারা তাদের উল্কি-ল্যাঙুঠি ছেড়ে প্যান্ট শার্ট ধরেনি। বেওয়ার চাষের জন্য বনভূমি ছিলো বিস্তর। মাংসের জন্য বুনো শুয়োরও ছিলো অনেক। তবে জীবন কঠিন ছিলো এখনকার মতই, খালি যোগ হয়নি শহুরে শাসন। আর অনাহার অর্ধাহারে মৃত্যু¤ হত না এখনকার মত। রুপাইনি পঁচিশ বছরের টগবগে যুবতী। মরদটা তার বির্জু বাইগা। হাট্টা জোয়ান। এককোপে গাছ কাটে, একটিপে শুয়োর মারে, বন্য শুয়োর। শুয়োরের মাংস বেচে মহুয়া খায়, মাদল বাজায়। আর রুপাইনিকে আশ্লেষে আদর করে। রুপাইনি প্রেম চায়। বির্জু নি:শেষে দেয়। রুপাইনি আরো চায়, বির্জু আবার শুরু করে, প্রথম থেকে।
তো, বির্জু হঠাৎ মরে গেল। সাপে কেটেছিলো। বিধবা হলো রুপাইনি। তবে বাইগাদের রীতি ভিন্ন। বিধবা হলেই শেষ হয়ে যায় না যৌনজীবন। আবার বিয়ে হয়। তবে, এবার পাত্র হবে মৃত স্বামীর ভাই। না চাইলে পরিবারের অন্য পুরুষ। না চাইলে পরিবারে বাইরে। তো, রুপাইনির বিয়ে হবে মঙ্গলু বাইগার সাথে। বির্জুর ভাই। বারো বছরের নাবালক কিশোর। এখনো যৌবন ফোটেনি দেহে। বিয়ের মর্ম বোঝেনা এখনো। প্রথম রাতে অধোবদন থাকে। রুপাইনি ডাকে কাছে। হাসে খিল্খিলিয়ে। মঙ্গলু ভয়ে কাঁপে, সিঁটিয়ে থাকে ঘরের কোণে। রুপাইনি, মঙ্গলুকে জোর করে টেনে নেয় ওর নরম বুকে। মঙ্গলু কেঁদে ফ্যালে ভ্যাঁ করে। পরদিন সকালে রুপাইনি পালায়। পাশের গ্রামের মসরু বাইগার ঘরে। আর এক জোয়ান মরদ। বির্জুকেই মনে করায়। রুপাইনি যে প্রেম চায়। প্রেম দেয় মসরুও।
মঙ্গলু বড় হয়, জঙ্গলে জঙ্গলে। গাছকাটা শেখে। শুয়োর শিকারও। শক্ত হয় বুকের পেশী। দিন যায়। নাবালক কিশোরের দেহে আসে সুঠাম যৌবন। মঙ্গলু এখন পরিপূর্ণ পুরুষ। ফসল ফলায়। মাদল বাজায়। মহুয়ার নেশায় বুঁদ হয়। যৌবনের মানে সে এখন বুঝে গেছে। এখন তার একাধিক সঙ্গিনী। বাইগা রমণীরা মঙ্গলুকে স্বপ্নে দেখে। রুপাইনির কথা মঙ্গলুর মনেও আসে না। এরপর একদিন রাতে মঙ্গলুর পাতার ঘরের দরজায় টোকা পড়ে। দরজা খুললে, ঘরে ঝাঁপিয়ে ঢোকে রুপাইনি। যৌবন যাই যাই করছে। ফিকে হয়ে এসেছে রূপের গুমর। তবু রুপাইনি প্রেম চায়। মঙ্গলুর কথা বাতাসে শুনেছে সে। মঙ্গলু যে আসলে রুপাইনিরই। হ্যাঁ প্রেম দিয়েছিলো মঙ্গলু। শুধু, সেই এক রাতের জন্যই। সেইখানে, যেখানে সে ভ্যাঁ করে কেঁদেছিলো দশ বছর আগে। পরদিন রুপাইনি চলে যায়, — আর আসে না।
গল্পের তৃতীয় পরিচ্ছেদ পড়তে এখানে ক্লিক করুন
"আলোর পথ"-এ প্রকাশিত গল্পসমূহ ও লেখনী মূলত পাঠক, শুভাকাংখী এবং সম্মানিত আবেদনকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কনটেন্টগুলোর উপর আমরা কোনো মেধাসত্ত্ব (copyright) দাবি করি না। যদি কোনো গল্প, ছবি বা তথ্যের কপিরাইট সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার প্রশ্ন, সংশয় বা আপত্তি থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে আমাদের যোগাযোগ পৃষ্ঠায় যোগাযোগ করুন। আমরা যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।