আবদুল্লাহ (রাঃ) মদীনার বিখ্যাত ইহুদী গোত্র বনু কায়নুকার সন্তান। তাঁর বংশধারা ঊর্ধ্বদিকে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছে। তাঁর উপনাম ছিল দুইটি—আবু ইউসুফ ও আবুল হারেস। পিতার নাম সালাম ইবন হারেস। তিনি মদীনার খাযরাজ গোত্রের একটি শাখা বনু ‘আউফ’-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিলেন। এই বনু ‘আউফ’-এর একটি উপশাখার নাম ছিল ‘কাওয়াকিল’। আবদুল্লাহ ইবন সালাম প্রাচীন জাহিলী আরবের রীতি অনুযায়ী এই কাওয়াকিল গোত্রের হানীফ বা চুক্তিবদ্ধ বন্ধু ছিলেন।
পরবর্তীকালে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাহাবীদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হন এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হন। ইসলাম-পূর্ব জাহিলী যুগে তাঁর নাম ছিল ‘হুসাইন’। ইসলাম গ্রহণের পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর নাম পরিবর্তন করে ‘আবদুল্লাহ’ রাখেন।
আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি হাদীস ও সীরাতের বিভিন্ন গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনায় যে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, তা হলো—ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি একজন বড় মাপের ইহুদী ধর্মগুরু হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাওরাতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর আগমনকাল ও তাঁর পরিচয় সম্পর্কে যে বিবরণ রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সম্যক অবগত ছিলেন। অনেকের মতো তিনিও শেষ নবীর আগমনের প্রতীক্ষায় ছিলেন।
ইবন ইসহাকের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন মদীনায় হিজরত করে সর্বপ্রথম কুবায় বনু আমর ইবন আউফ গোত্রের এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করেন, তখন আবদুল্লাহ ইবন সালাম একটি খেজুর গাছের ওপর ছিলেন। এক ব্যক্তি তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর আগমনের সংবাদ দিলে তিনি দ্রুত সেখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ করেন এবং প্রথম দর্শনেই বুঝতে পারেন যে, তিনিই সেই প্রতিশ্রুত নবী।
পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন মদীনার মূল ভূখণ্ডে এসে আবু আইউব আল-আনসারী (রাঃ)-এর গৃহে অবস্থান গ্রহণ করেন, তখন আবদুল্লাহ ইবন সালাম পুনরায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। এই সাক্ষাতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হয়। বিভিন্ন বর্ণনায় এসব কথা বিভিন্নভাবে এসেছে। এখানে আমরা তার কয়েকটি দিক উল্লেখ করছি।
আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বলতেন: আমি আমার পিতার নিকট তাওরাতের পাঠ ও ব্যাখ্যা শিখেছিলাম। একদিন তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর পরিচয়, নিদর্শন, গুণাবলি ও তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত একটি আয়াত পাঠ করালেন। এরপর তিনি বললেন—যদি তিনি হারূন (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর হন, তাহলে তাঁর অনুসরণ করবে; অন্যথায় নয়। তবে আমার পিতা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হিজরতের আগেই ইন্তেকাল করেন।
অতঃপর একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনায় আগমন করলেন। সে সময় আমি বাগানে খেজুর পাড়ছিলাম এবং আমার ফুফু খালেদা বিনতুল হারেস খেজুর কুড়াচ্ছিলেন। এ সময় ইহুদী গোত্র বনু নাদীরের এক ব্যক্তি চিৎকার করে বলতে লাগল: “আরবের অধিকারী ব্যক্তি আজ এসে গেছেন।” একথা শুনে আমি কাঁপতে শুরু করলাম এবং উচ্চস্বরে তাকবীর দিলাম।
আমার বৃদ্ধা ফুফু আমার এ অবস্থা দেখে বললেন: “ওরে খবীছ! তোমার যা অবস্থা হয়েছে, মূসা ইবন ইমরান যদি নিজেই আসতেন, তাহলেও এর চেয়ে বেশি হতো না।” আমি বললাম: “ফুফু! তিনি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এরই ভাই এবং তাঁরই দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি যা নিয়ে এসেছিলেন, ইনিও তাই নিয়ে এসেছেন।”
আমি গাছ থেকে নেমে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তাঁর অবয়ব প্রত্যক্ষ করলাম এবং তাঁকে চিনে নিলাম। আমি তাঁকে আমার পিতার কথাও জানালাম। এরপর আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। পরবর্তীতে আমার ফুফুও ইসলাম গ্রহণ করেন।
আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) আরও বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন মদীনায় পদার্পণ করেন, তখন মানুষ তাঁর কাছে ভিড় জমায়। আমিও তাঁদের সঙ্গে গেলাম। তাঁকে দেখেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম—এই চেহারা কোনো ভণ্ড বা মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। আমি তাঁর মুখ থেকে সর্বপ্রথম যে কথাগুলো শুনেছিলাম তা হলো—
“হে মানুষ! তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, মানুষকে আহার করাও, আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখো এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায আদায় করো—তাহলে তোমরা শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মক্কা থেকে কুবায় পৌঁছানোর পর আবদুল্লাহ ইবন সালামের (রাঃ) সঙ্গে যে প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে, উপরোক্ত বর্ণনাটি সম্ভবত সেই সাক্ষাতেরই বিবরণ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তিন দিন কুবায় অবস্থান করার পর মদীনার মূল ভূখণ্ডের দিকে যাত্রা করেন। পথে সকলের অনুরোধ-উপরোধ উপেক্ষা করে তিনি আবু আইউব আল-আনসারী (রাঃ)-এর গৃহে অবস্থান গ্রহণ করেন।
এ সময় আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) পুনরায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হন। এই সাক্ষাতের বর্ণনা আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে।
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে—রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনায় আগমনের পর আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) সাক্ষাৎ করতে আসেন। তিনি রাসূলুল্লাহকে (সাঃ) লক্ষ্য করে বলেন: “ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আপনাকে এমন তিনটি প্রশ্ন করতে চাই, যার উত্তর কেবল নবীরাই জানেন।”
ক) কিয়ামতের প্রথম আলামত বা নিদর্শন কী?
খ) জান্নাতের অধিবাসীদের প্রথম খাবার কী হবে?
গ) সন্তান পিতা অথবা মাতার সদৃশ হয় কেন?
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: “এই মাত্র জিবরীল (আঃ) আমাকে এই কথাগুলো বলে গেলেন।”
আবদুল্লাহ ইবন সালাম বললেন: “ফিরিশতাদের মধ্যে এই জিবরীলই তো ইহুদীদের দুশমন।”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উত্তর দিলেন—
-
কিয়ামতের প্রথম আলামত হলো পূর্ব থেকে একটি আগুন বের হবে, যা মানুষকে তাড়িয়ে নিয়ে পশ্চিমে সমবেত করবে।
-
জান্নাতের অধিবাসীদের প্রথম খাবার হবে মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ।
-
সন্তানের পিতা-মাতার সদৃশ হওয়ার কারণ হলো—পুরুষের পানি আগে বের হলে সন্তান তার দিকে ঝুঁকবে, আর স্ত্রীর পানি আগে বের হলে সন্তান তার দিকে ঝুঁকবে।
এ জবাব শুনে আবদুল্লাহ ইবন সালাম বললেন: “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসূল।”
এরপর আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বললেন: “ইয়া রাসূলুল্লাহ! ইহুদীরা একটি মিথ্যাবাদী সম্প্রদায়। আমি একজন আলিম (জ্ঞানী) পিতার আলিম সন্তান। ঠিক তেমনি একজন রয়িস (নেতা) পিতার রয়িস সন্তান। আপনি ইহুদীদের ডেকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন, তবে আমার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি তাদের কাছে গোপন রাখবেন।”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর কথা মতো ইহুদীদের ডেকে ইসলামের দাওয়াত দেন। এক পর্যায়ে তিনি তাদেরকে প্রশ্ন করলেন: “তোমাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন সালাম কে?”
তারা বলল: “তিনি তো আমাদের প্রাক্তন রয়িসের ছেলে এবং বর্তমান রয়িস। আলিম পিতার আলিম সন্তান।”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: “আচ্ছা, তিনি কি ইসলাম গ্রহণ করতে পারেন?”
তারা বলল: “কখনোই না।”
এদিকে আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) তখন ঘরের এক কোণে লুকিয়ে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত করলেন। তিনি কেলিমা শাহাদাত উচ্চারণ করতে করতে বেরিয়ে এসে ইহুদী সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বললেন: “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। ভালো করেই জানো, এই ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর দ্বীন সত্য।”
তাঁর আবেদন সত্ত্বেও ইহুদীরা ঈমান আনলো না। বরং অপ্রত্যাশিতভাবে তারা এত অপমানিত হলো যে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো। তারা আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করে বলতে লাগল: “তুমি একজন ভণ্ড, মিথ্যাবাদী ও বিশ্বাসঘাতক। তুমি আমাদের সম্প্রদায়ের নিকৃষ্টতম ব্যক্তি। তোমার বাবাও ছিলেন একজন প্রতারক।”
আবদুল্লাহ তখন বললেন: “ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি দেখলেন তো, আমি এরই ভয় পাচ্ছিলাম।”
যখন ইহুদীরা রাসূলুল্লাহর (সাঃ) দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে চলে গেল, তখন পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আহক্বাফের দশম আয়াত নাযিল হলো।
আবদুল্লাহ ইবন সালামের (রাঃ) ইসলাম গ্রহণের সময়কাল সম্পর্কে ভিন্নমত রয়েছে। ইমাম শা’বী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি রাসূলুল্লাহর (সাঃ) ওফাতের দুই বছর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইমাম জাহাবী বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী ও প্রত্যাখ্যাত বর্ণনা। কারণ সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি রাসূলুল্লাহর (সাঃ) হিজরাত ও মদীনায় আগমনের সময় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ইবন সা’দ উল্লেখ করেন, তিনি মদীনায় আগমনের প্রথম ভাগেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ইহুদীদের একজন হাব্র বা ধর্মগুরু।
বদর ও উহুদ যুদ্ধে আবদুল্লাহ ইবন সালামের যোগদানের ব্যাপারে সীরাত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পার্থক্য আছে। ইবন সা’দ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সর্বপ্রথম খন্দক যুদ্ধে যোগদান করেন। এ কারণে তাঁকে সাহাবীদের তৃতীয় তাবকা (স্তর) খন্দকের যোদ্ধাদের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খন্দকের পর থেকে সকল যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন।
খলীফা উমার (রাঃ)-এর বাইতুল মাকদাস সফরকালে তিনি রাসূলুল্লাহর (সাঃ) সহযাত্রী ছিলেন। আল-ওয়াকিদী বর্ণনা করেছেন, বায়তুল মাকদাস ও জাবিয়া বিজয়ে তিনি অন্যতম অংশীদার ছিলেন।
বিদ্রোহীরা যখন খলীফা উসমান (রাঃ)-কে গৃহে অবরুদ্ধ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করতে থাকে, তখন সেই দুর্যোগময় মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) একদিন তাঁর কাছে সাক্ষাৎ করতে যান এবং বলেন:
“আমরা সাহায্যের জন্য প্রস্তুত। এখন এভাবে আপনার ঘরে বসে থাকা ঠিক হবে না। বাইরে গিয়ে সমবেত জনতাকে বিক্ষিপ্ত করে দিন।”
এ কথাগুলো বলে আবদুল্লাহ নিজেই জনতার সামনে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। এই ভাষণ বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তার সারাংশ নিম্নরূপ—
“ওহে জনমণ্ডলী! জাহিলি আমলে আমার নাম ছিল হুসাইন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে ‘আবদুল্লাহ’ নাম দিয়েছেন। কুরআন পাকের এই আয়াতগুলি আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে—
১) আর বনী ইসরাঈল-এর একজন সাক্ষী এর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, আর তোমরা অহঙ্কার করছো। (সূরা আল-আহক্বাফ-১০)
২) কাফেররা বলে: ‘আপনি রাসূল নন’। বলো—আমার ও তোমাদের মধ্যে প্রকৃষ্ট সাক্ষী হচ্ছেন আল্লাহ এবং ঐ ব্যক্তি, যার কাছে আসমানী গ্রন্থের জ্ঞান আছে। (সূরা রা’দ-৪৩)
আল্লাহর তরবারি এখন পর্যন্ত কোষবদ্ধ আছে এবং তোমরা এই শহর—রাসূলুল্লাহর (সাঃ) হিজরাত স্থল—কে ফিরিশতারা তাদের আবাসভূমি বানিয়ে রেখেছে। অতএব, আল্লাহকে ভয় করো। উসমান (রাঃ)-কে হত্যা থেকে বিরত থাকো। আল্লাহর কসম! যদি তোমরা তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্তই নাও, তাহলে তোমাদের প্রতিবেশী ফেরেশতারা মদীনাকে ত্যাগ করবে। এবং এখন পর্যন্ত কোষবদ্ধ থাকা তরবারি বেরিয়ে পড়বে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা আর কোষবদ্ধ থাকবে না।”
তাঁর এই ভাষণ কঠোর হৃদয়বিশিষ্ট বিদ্রোহীদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং তাদের দুভাগ্য ও হঠকারিতা আরও বেড়ে গেল। তারা বলল: “এই ইহুদী ও উসমান—দুইজনকেই হত্যা কর।”
অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে—আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বলেন:
“উসমান (রাঃ) যখন গৃহবন্দী ছিলেন, আমি একদিন তাঁকে সালাম জানাতে গেলাম। আমি তাঁর গৃহে প্রবেশ করতেই তিনি বললেন: ‘আমার ভাই, স্বাগতম! গত রাতে আমি রাসূলুল্লাহর (সাঃ) এই জানালা দিয়ে দেখেছি।’ তিনি আরও বললেন: ‘উসমান! তোমাকে তারা অবরুদ্ধ করেছে?’ বললাম: ‘হ্যাঁ।’ বললেন: ‘তোমাকে তারা তৃষ্ণার্ত রেখেছে?’ বললাম: ‘হ্যাঁ।’ এরপর তিনি আমাকে একটি পানিভর্তি বালতি দিলেন। আমি পান করে পিপাসা নিবারণ করলাম। তিনি বললেন: ‘তুমি চাইলে তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে বিজয়ী করবো। আর ইচ্ছা করলে আজ আমার সাথে ইফতার করতে পার।’ আমি তাঁর সাথে ইফতার করতে বেছে নিলাম। তিনি সেই দিন নিহত হন।”
খলীফা আলী (রাঃ) যখন মদীনার পরিবর্তে কুফাকে রাজধানী করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন আবদুল্লাহ ইবন সালাম তাঁকে বলেন:
“আপনি মদীনার মসজিদে রাসূলুল্লাহর (সাঃ) মিম্বর ত্যাগ করবেন না। এটি ত্যাগ করলে আর কখনও তা যিয়ারত করতে পারবেন না।”
এতে আলী (রাঃ) মন্তব্য করেন: “বেচারা, তিনি বড় সরল ও সৎ মানুষ।”
অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, আলী (রাঃ) বলেন: “আমি ঘোড়ার পিঠে উঠার জন্য যখন পা রাখছি, ঠিক সেই সময় আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) আমার কাছে এসে বললেন: ‘কোথায় যাচ্ছেন?’ বললাম: ‘ইরাক।’ তিনি বললেন: ‘সেখানে গেলে আপনি তরবারির ধার লাভ করবেন।’ আমি বললাম: ‘আমি আগেই এ কথা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি।’
খলীফা আলী (রাঃ) ও মু’য়াবিয়া (রাঃ)-এর ঝগড়া ও বিবাদে তিনি জড়াননি। তিনি একটি কাঠের তৈরি তরবারি সঙ্গে রেখে এ বিবাদ থেকে সতর্কভাবে দূরে থাকতেন।
সকল সীরাত বিশেষজ্ঞ একমত যে, তিনি আমীর মু’য়াবিয়ার (রাঃ) খিলাফতকালে হিজরী ৪৩ সনে মদীনায় ইন্তিকাল করেন। তিনি দুই ছেলে রেখে যান। তাঁদের নাম ইউসুফ ও মুহাম্মদ। উভয়ের জন্মই রাসূলুল্লাহর (সাঃ) জীবদ্দশায়। ইউসুফ ছিলেন বড়। তাঁর জন্মের পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকে কোলে তুলে মাথায় হাত রাখেন এবং ‘ইউসুফ’ নাম রাখেন।
আবদুল্লাহ ইবন সালামের (রাঃ) দৈনিক পঠন-পাঠনের তেমন বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। তবে জানা যায়, বয়স বৃদ্ধির কারণে তিনি লাঠি নিয়ে চলাফেরা করতেন এবং প্রয়োজনে তাতে ঠেস দিতেন। মুখমণ্ডলে সর্বদা খোদাভীতির ছাপ প্রতিভাত হতো।
আবদুল্লাহর (রাঃ) বুকটি ভরা ছিল তাওরাত, ইনজীল, কুরআন মাজীদ ও হাদীসের নববীর জ্ঞানে। তাওরাতে তাঁর সীমাহীন পারদর্শিতা সম্পর্কে আল্লামা জাহাবী লিখেছেন:
“আবদুল্লাহ ইবন সালাম তাঁর সময়ে মদীনায় আহলি কিতাবদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলিম ছিলেন।”
ইসলাম গ্রহণের পর তিনি কুরআন ও হাদীসের প্রতি মনোযোগ দেন এবং এর জ্ঞানে সকলের আস্থা অর্জন করেন। এর চেয়ে মর্যাদার বিষয় আর কি হতে পারে যে, আবু হুরাইরাহ (রাঃ)—যিনি সাহাবীদের মধ্যে হাদীসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী পারদর্শী ছিলেন—তাঁর নিকট হাদীস জিজ্ঞেস করতেন।
একবার আবু হুরাইরাহ (রাঃ) শামে গেলে কা’ব ইবন আহ্বারের নিকট এই হাদীসটি বর্ণনা করেন:
“জুম’আর দিনে এমন একটি মুহূর্ত থাকে, যখন যদি কোন বান্দা আল্লাহর নিকট কিছু চায়, তিনি অবশ্যই তা তাকে দান করেন।”
হাদীসটি শোনার পর কা’ব কিছুটা বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে থাকেন। পরে তিনি আবু হুরাইরাহর বর্ণনার সাথে একমত হন।
এদিকে, আবু হুরাইরাহ (রাঃ) মদীনায় এসে আবদুল্লাহ ইবন সালামের (রাঃ) নিকট একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। আবদুল্লাহ শুনে মন্তব্য করলেন: “কা’ব মিথ্য বলেছে।” তখন আবু হুরাইরাহ বললেন: “শেষে তিনি আমার কথা মেনে নিয়েছেন।”
আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন: “আপনি কি জানেন সেটা কোন সময়?” এই প্রশ্ন শুনে আবু হুরাইরাহ তাঁর পিছু নিলেন এবং সময়টি বলার জন্য অনুরোধ করতে লাগলেন। তখন আবদুল্লাহ বললেন: “আসর ও মাগরিবের মাঝখানের সময়।”
আবু হুরাইরাহ বললেন: “আসর ও মাগরিবের মাঝখানে তো কোনো নামায নেই। এটা কিভাবে সম্ভব?”
আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন: “আপনার হয়তো জানা নেই যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন—যে ব্যক্তি নামাযের প্রতীক্ষায় বসে থাকে, সে যেন নামাযের মধ্যেই থাকে।”
হাদীসে তাঁর পারদর্শিতা সত্ত্বেও, আবদুল্লাহ ইবন সালামের (রাঃ) থেকে মাত্র পঞ্চাশটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাঁর মুখ থেকে হাদীস শুনে যাঁরা বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অনেক বিশিষ্ট সাহাবী রয়েছেন, যেমন: আনাস ইবন মালিক, জুরারাহ ইবন আওফা, আবু হুরাইরাহ, আবদুল্লাহ ইবন মা’কিল, আবদুল্লাহ ইবন হানজালা প্রমুখ।
এছাড়া তাঁর বিশেষ কয়েকজন ছাত্রের নাম: খারাশা ইবন আল-হুর, কায়স ইবন উবাদ, আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান, হামযাহ ইবন ইউসুফ (পৌত্র), উমার ইবন মুহাম্মদ (পৌত্র), আওফ ইবন মালিক, আবু বুরাদাহ্ ইবন আবী মুসা, আবু সা’ঈদ আল-মুকরী, উবাদাহ্ আয-যারকী, আতা ইবন ইয়াসার, উবাইদুল্লাহ ইবন জায়শ আল-গিফারী, জুররাহ্ ইবন আওফা, ইউসুফ ও মুহাম্মদ (দুই পুত্র)।
সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন সালামের সম্মান ও মর্যাদা ছিল অতি উঁচুতে। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট আলিম সাহাবীদের অন্যতম। বিখ্যাত সাহাবী মু’য়াজ ইবন জাবালের (রাঃ) শেষ সময় যখন ঘনিয়ে এল, তাকে বলা হলো: “আমাদেরকে কিছু উপদেশ দিন।” তিনি বললেন:
“আমি দুনিয়া থেকে চলে যাচ্ছি। তবে আমার সাথে ইলম বা জ্ঞান যাচ্ছে না। যে ব্যক্তি তা অনুসন্ধান করবে, সে লাভবান হবে। তোমরা আবুদ্দারদা, সালামান আল-ফারেসী, আবদুল্লাহ ইবন মাস’উদ ও আবদুল্লাহ ইবন সালামের নিকট জ্ঞান অনুসন্ধান করবে।”
আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) ছিলেন ইহুদী, পরে মুসলমান হন। আমি রাসূলুল্লাহর (সাঃ) কাছ থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: “তিনি দশম জান্নাতী ব্যক্তি।”
সা’দ ইবন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেছেন:
“আমি একমাত্র আবদুল্লাহ ইবন সালাম ছাড়া পৃথিবীতে এমন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহকে (সাঃ) একথা বলতে শুনিনি—সে একজন জান্নাতের অধিকারী ব্যক্তি। তাঁরই সম্পর্কে নাযিল হয়েছে সূরা আল-আহক্বাফের ১০ নং আয়াত।”
মুসাইয়্যাব ইবন সা’দ ইবন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) তাঁর পিতা সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহর (সাঃ) নিকট একটি পেয়ালা সারীদ’আনা হলো। তিনি খাওয়ার পর কিছু অবশিষ্ট থাকলো। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: “এই ফাঁক দিয়ে একজন জান্নাতী ব্যক্তি প্রবেশ করবে এবং এই অংশ খেয়ে ফেলবে।”
সা’দ (রাঃ) বলেন: আমি আমার ভাই উমাইরকে ওজু করতে পাঠিয়েছিলাম। আমি চাচ্ছিলাম, সে এসে এটি খেয়ে ফেলুক। কিন্তু তাঁর আগেই আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) এসে তা খেয়ে ফেললেন।
আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) এত বড় মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও খুবই বিনয়ী ছিলেন। কেউ যদি সামান্য প্রশংসা করত, তিনি ক্ষেপে যেতেন।
কায়স ইবন উবাদ বলেন: আমি মদীনার মসজিদে ছিলাম। এমন সময় একজন ব্যক্তি আসলেন, যাঁর চেহারায় খোদাভীতির ছাপ স্পষ্ট প্রতিভাত হচ্ছিল। লোকেরা বলল: “ইনি একজন জান্নাতী ব্যক্তি।” এরপর তিনি দুই রাকাআত সংক্ষিপ্ত নামায আদায় করলেন। তিনি যখন মসজিদ থেকে বের হলেন, আমি তাঁকে অনুসরণ করলাম। তিনি তাঁর ঘরে ঢুকলেন, আমি পিছনে পিছনে ঢুকলাম। তাঁকে সঙ্গে কথা বলে পরিচিত হওয়ার পর বললাম: “আপনি যখন মসজিদে প্রবেশ করেন, তখন লোকেরা এমন কথা বলছিল।” তিনি বললেন: “সুবহানাল্লাহ! কোনো মানুষের এমন কথা বলা উচিত নয় যা সে জানে না। আমি তোমাকে বলছি: আমি একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম। স্বপ্নে আমি একটি সবুজ উদ্যান দেখলাম, যার মাঝখানে একটি লোহার খুঁটি ছিল। খুঁটির গোড়া মাটিতে এবং আগা আকাশে। আগায় একটি রশি বাঁধা। আমাকে বলা হলো: খুঁটির উপরে উঠ। আমি উঠলাম এবং রশি ধরলাম। তখন আমাকে বলা হলো: শক্তভাবে আঁকড়ে থাক। রশিটি আমার হাতে ফাকা অবস্থায় আমি ঘুম থেকে জেগে উঠি। সকালে আমি রাসূলুল্লাহর (সাঃ) নিকট স্বপ্নটি বর্ণনা করলাম। রাসূল (সাঃ) বললেন: উদ্যানটি হলো ইসলামের উদ্যান, খুঁটি হলো ইসলামের খুঁটি, আর রশি হলো ইসলামের রশি। তুমি অমরণ ইসলামের ওপর থাক।”
কায়স বলেন: সেই লোকটি ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ)।
খারাশা ইবনুল হুর স্বপ্নটি কিছুটা ভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর স্বপ্নের বিবরণ শুনে বললেন: “ইসলামের শক্ত রশি আঁকড়ে থাকা অবস্থায় তোমার মৃত্যু হবে।”
আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ)-এর বিনয়ের আরও বহু ঘটনা বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। একবার তিনি লাকড়ির একটি বোঝা মাথায় করে চলছিলেন। তা দেখে লোকেরা তাঁকে বললো: “এমন কাজ করা থেকে আল্লাহ আপনাকে রেহাই দিয়েছেন।” তিনি বললেন: “হ্যাঁ, ঠিক। তবে আমি এ কাজের মাধ্যমে আমার অহঙ্কার ও আভিজাত্য চুরমার করতে পারি। কারণ আমি রাসূলুল্লাহকে (সাঃ) বলতে শুনেছি: যার অন্তরে একটি সরিষার দানা পরিমাণ কিবর বা অহঙ্কার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।”
আবদুল্লাহর (রাঃ) মধ্যে সত্য ও সততার সীমাহীন আবেগ ও শক্তি ছিল। শেষ জীবনে তিনি বলতেন: “তোমাদের যদি আর একবার কুরাইশদের সাথে যুদ্ধ বেঁধে যায়, আর সে সময় যদি আমার মধ্যে শক্তি না থাকে, তাহলে একটি চৌকির ওপর আমাকে বসিয়ে দুই পক্ষের মাঝখানে রাখবে।”
আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, একবার সালমান আল-ফারেসী (রাঃ) তাঁকে বললেন: “ভাই! আমাদের মধ্যে যে আগে মারা যাবে, তাকে স্বপ্নে দেখার চেষ্টা করবো যে সে জীবিত আছে।” আবদুল্লাহ ইবন সালাম বললেন: “এটা কি সম্ভব?” সালমান বললেন: “হ্যাঁ, সম্ভব। ঈমানদার ব্যক্তির রূহ মুক্ত থাকে। পৃথিবীর যেখানে ইচ্ছা যেতে পারে। আর কাফির ব্যক্তির রূহ থাকে বন্দী।”
সালমান মারা গেলেন। আবদুল্লাহ ইবন সালাম বলেন: “একদিন আমি মধ্যরাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সালমান এসে আমাকে সালাম দিলেন। আমি সালামের জবাব দিয়ে বললাম: ‘আবু আবদুল্লাহ! আপনি আপনার বাসস্থান কেমন পেয়েছেন?’ তিনি বললেন: ‘ভালো। তুমি তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর নির্ভরতা) আঁকড়ে থাকো। তাওয়াক্কুল খুব ভালো জিনিস।’ একথা তিনি তিনবার বললেন। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছেঃ আবদুল্লাহ প্রশ্ন করেছিলেন: ‘আপনি কোন আমলটি সবচেয়ে ভালো পেয়েছেন?’ তিনি বললেন: ‘তাওয়াক্কুলকে আমি বিস্ময়কর জিনিস হিসেবে পেয়েছি।’
আবু বুরদাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে: “একবার আমি মদীনায় গিয়ে আবদুল্লাহ ইবন সালামের সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি আমাকে বললেন: ‘তুমি কি আমার বাড়ীতে যাবে না? চল, তোমাকে ছাতু ও খোরমা খাওয়াবো।’ আমি গেলাম। তিনি আমাকে বললেন: ‘দেখ, তোমরা এমন এক অঞ্চলে বাস কর যেখানে সুদ প্রচলিত। তোমার যদি কোন ব্যক্তির কাছে কিছু পাওনা থাকে, আর সে তোমাকে পশুর খাদ্য বা কিছু উপহার দেয়, তুমি তা নিবে না। কারণ তা সুদ হয়ে যাবে।’”
আবদুল্লাহ ইবন সালামের (রাঃ) শানে পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আহক্বাফ ও সূরা আর-রাদ-এর যথাক্রমে ১০ নং ও ৪৩ নং আয়াত ছাড়া আরো দুটি আয়াত নাযিল হয়েছে বলে কিছু মুফাসসির মত প্রকাশ করেছেন। ইবন ইসহাক ইবন আব্বাসের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, সূরা আলে ইমরানের ১১৩ ও ১১৪ নং আয়াত দুইটি আবদুল্লাহ ইবন সালাম ও সা’লাবা ইবন সা’ইয়ার প্রশংসায় নাযিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাঁদের সম্পর্কে বলেন:
“তারা সবাই সমান নয়। আহলে কিতাবদের মধ্যে কিছু লোক এমনও আছে যারা অবিচলভাবে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং রাতের গভীরে তারা সিজদা করে। তারা আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে এবং কল্যাণকর বিষয়ের নির্দেশ দেয়, অকল্যাণ থেকে বারণ করে এবং সৎকাজের জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করে। আর এরাই হলো সৎকর্মশীল।”
এভাবে স্বয়ং আল্লাহ পাক আবদুল্লাহ ইবন সালামের (রাঃ) মর্যাদার সনদ প্রদান করেছেন। তিনি কত মহান ব্যক্তি ছিলেন তা আল্লাহ তা’য়ালার এই ঘোষণায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
"আলোর পথ"-এ প্রকাশিত গল্পসমূহ ও লেখনী মূলত পাঠক, শুভাকাংখী এবং সম্মানিত আবেদনকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কনটেন্টগুলোর উপর আমরা কোনো মেধাসত্ত্ব (copyright) দাবি করি না। যদি কোনো গল্প, ছবি বা তথ্যের কপিরাইট সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার প্রশ্ন, সংশয় বা আপত্তি থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে আমাদের যোগাযোগ পৃষ্ঠায় যোগাযোগ করুন। আমরা যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।