হযরত শামউন মুহেব্ব (রঃ) – শেষ পর্ব

হযরত শামউন মুহেব্ব (রঃ) – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

একবার বাগদাদে অবস্থানকালে এক দরবেশের হজ্জের ইচ্ছা আগে। কিন্তু তিনি ছিলেন নিঃসম্বল। তাই স্থির করলেন, হযরত আবু মুহাম্মদ (রঃ) বাগদাদে আসছেন তখন জুতো ও পানির পেয়ালা কেনার জন্য তাঁর কাছে পনেরটি টাকা চাইবেন।

একবার বাগদাদের একটি পল্লীপথ ধরে চলেছেন হযরত মুরতায়েশ (রঃ) পানির পিপাসা অনুভূত হওয়ায় তিনি এক গৃহস্থের দরজায় গিয়ে পানি চাইলেন। একটি মেয়ে এসে তাঁর হাতে পানি দিল। আর বালিকার রূপ দেখে তিনি এতই মুগ্ধ হলেন যে, যেন প্রাণ বেরিয়ে যায় আর কী? পানি পান করে দরজায় ওপর বসে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর গৃহস্বামী দরজায় দেখা দিলে তিনি বললেন, এক গ্লাস পানির বিনিময়ে আমার প্রাণ নেয়া হয়েছে। সামান্য পানির বদলে এভাবে প্রাণ নেয়া জুলুম বৈ কি? গৃহকর্তা হযরত মুরতায়েশ (রঃ) কে চিনতেন। আর তিনিও ছিলেন বড় মনের মানুষ। বললেন, ওটি আমারই মেয়ে। আপনার যদি ইচ্ছা হয় তা হলে আমি আপনার হাতে সঁপে দিতে রাজি। হযরত জানালেন, দয়া করে তাই করুন। তাই হল। বেশ ধুমধামের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেল। এবার তার পরনের দরবারী পোশাক কুলে দিয়ে নব ববের পোশাক পরিয়ে দেয়া হল। নববধূকে নিয়ে বাসরঘরে ঢুকলেন। প্রথমে নামাজ পড়লেন। তারপর নামাজ শেষ করে উঠেই চিৎকার করে বলে উঠলেন, আমার পোশাক খুলে ফেলে আবার তাঁর ফকিরি পোশাক পরে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্তঃপুর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

সবাই বলল, কী ব্যাপার? তিনি বললেন, নামাজের মধ্যেই আমি অদৃশ্য বাণী শুনতে পাই। তাতে বলা হয়, আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তুমি যে একবার নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করেছ, তাতে পুণ্যবানদের খিরকা তোমার শরীর থেকে খুলে নেয়া হয়। যদি আবার দৃষ্টিপাত কর তা হলে মন থেকে গুপ্ত লেবাসও নিয়ে নেয়া হবে।

একবার কেউ তাঁকে বলেন, অমুক ব্যক্তি পানির ওপর দিয়ে হাঁটে এবং আকাশে উড়ে বেড়ায়। তিনি উত্তর দেন, যে রিপু দমন করতে পারে সে তার চেয়েও বহু গুণে শ্রেষ্ঠ।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বজ্ঞানী আল্লাহর শিকারতুল্য। আল্লাহ যখন তাঁকে শিকার করেন তখন উচ্চ আসনে বসিয়ে দেন। তাঁর বন্ধুরা একবার তাঁর কাছে উপদেশ প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, তাঁর চেয়ে যিনি উত্তম, তাঁর কাছে উপদেশ চাও। আর তোমাদের মধ্যে যে উত্তম তাকে তাঁর কাছে রেখে দাও।

তিনি আরও বলেন, আমল জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় এ কথা যে মনে করে, সে রিপুর প্রতারণায় পতিত। আর যে আমল দ্বারা আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের কামনা করে, সে জান্নাতের দাবীদার। তিনি বলেন, উপলক্ষ ও কারণসমূহের ওপর নির্ভরতা হল আসবাব, যা উপলক্ষ, সৃষ্টিকারক থেকে দূর করে দেয়। তিনি আরও বলেন, দুনিয়া ও রিপু থেকে সরে যাওয়া হল আল্লাহর সঙ্গে বন্ধুত্ব সৃষ্টির কারণ।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত শামউন মুহেব্ব (রঃ) – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হযরত শামউন মুহেব্ব (রঃ) – শেষ পর্ব

হযরত শামউন মুহেব্ব (রঃ) – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

একবার বাগদাদে অবস্থানকালে এক দরবেশের হজ্জের ইচ্ছা আগে। কিন্তু তিনি ছিলেন নিঃসম্বল। তাই স্থির করলেন, হযরত আবু মুহাম্মদ (রঃ) বাগদাদে আসছেন তখন জুতো ও পানির পেয়ালা কেনার জন্য তাঁর কাছে পনেরটি টাকা চাইবেন।

একবার বাগদাদের একটি পল্লীপথ ধরে চলেছেন হযরত মুরতায়েশ (রঃ) পানির পিপাসা অনুভূত হওয়ায় তিনি এক গৃহস্থের দরজায় গিয়ে পানি চাইলেন। একটি মেয়ে এসে তাঁর হাতে পানি দিল। আর বালিকার রূপ দেখে তিনি এতই মুগ্ধ হলেন যে, যেন প্রাণ বেরিয়ে যায় আর কী? পানি পান করে দরজায় ওপর বসে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর গৃহস্বামী দরজায় দেখা দিলে তিনি বললেন, এক গ্লাস পানির বিনিময়ে আমার প্রাণ নেয়া হয়েছে। সামান্য পানির বদলে এভাবে প্রাণ নেয়া জুলুম বৈ কি? গৃহকর্তা হযরত মুরতায়েশ (রঃ) কে চিনতেন। আর তিনিও ছিলেন বড় মনের মানুষ। বললেন, ওটি আমারই মেয়ে। আপনার যদি ইচ্ছা হয় তা হলে আমি আপনার হাতে সঁপে দিতে রাজি। হযরত জানালেন, দয়া করে তাই করুন। তাই হল। বেশ ধুমধামের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেল। এবার তার পরনের দরবারী পোশাক কুলে দিয়ে নব ববের পোশাক পরিয়ে দেয়া হল। নববধূকে নিয়ে বাসরঘরে ঢুকলেন। প্রথমে নামাজ পড়লেন। তারপর নামাজ শেষ করে উঠেই চিৎকার করে বলে উঠলেন, আমার পোশাক খুলে ফেলে আবার তাঁর ফকিরি পোশাক পরে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্তঃপুর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

সবাই বলল, কী ব্যাপার? তিনি বললেন, নামাজের মধ্যেই আমি অদৃশ্য বাণী শুনতে পাই। তাতে বলা হয়, আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তুমি যে একবার নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করেছ, তাতে পুণ্যবানদের খিরকা তোমার শরীর থেকে খুলে নেয়া হয়। যদি আবার দৃষ্টিপাত কর তা হলে মন থেকে গুপ্ত লেবাসও নিয়ে নেয়া হবে।

একবার কেউ তাঁকে বলেন, অমুক ব্যক্তি পানির ওপর দিয়ে হাঁটে এবং আকাশে উড়ে বেড়ায়। তিনি উত্তর দেন, যে রিপু দমন করতে পারে সে তার চেয়েও বহু গুণে শ্রেষ্ঠ।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বজ্ঞানী আল্লাহর শিকারতুল্য। আল্লাহ যখন তাঁকে শিকার করেন তখন উচ্চ আসনে বসিয়ে দেন। তাঁর বন্ধুরা একবার তাঁর কাছে উপদেশ প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, তাঁর চেয়ে যিনি উত্তম, তাঁর কাছে উপদেশ চাও। আর তোমাদের মধ্যে যে উত্তম তাকে তাঁর কাছে রেখে দাও।

তিনি আরও বলেন, আমল জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় এ কথা যে মনে করে, সে রিপুর প্রতারণায় পতিত। আর যে আমল দ্বারা আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের কামনা করে, সে জান্নাতের দাবীদার। তিনি বলেন, উপলক্ষ ও কারণসমূহের ওপর নির্ভরতা হল আসবাব, যা উপলক্ষ, সৃষ্টিকারক থেকে দূর করে দেয়। তিনি আরও বলেন, দুনিয়া ও রিপু থেকে সরে যাওয়া হল আল্লাহর সঙ্গে বন্ধুত্ব সৃষ্টির কারণ।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত শামউন মুহেব্ব (রঃ) – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন...

খৃষ্টান মহিলার প্রেমে পাগল হওয়ার ঘটনা

বুজুর্গ ব্যক্তি বললেন, একদা আমি হযরত হাসান বসরী (রহঃ) এর দরবারে বসেছিলাম। এমন সময় আমাদের…

এক বুজুর্গের কসমের উছিলায়

হযরত আবূ আব্দুল্লাহ কাররাশী (রাঃ) বলেন, একবার মুশরিক সৈন্যরা স্পেন শহরে প্রবেশ করে বিনা যুদ্ধে…

স্বপ্ন যোগে রাসূলের দিদার।

ইমাম কাফেলায় হাবীবের ঈমানী চেতনার প্রকাশ্য শক্তি যেন কয়েকগুণ বাড়াল। ইমাম হোসাইন (রাঃ) গভীর রাতে…