ছাগলের অনশন

হঠাৎ এক উত্তেজিত কণ্ঠ শোনা গেল। কি কারন হতে পারে এই কণ্ঠের উত্তেজনার। দোকানের মালিক জগা খান একটা ছেলেকে গালাগালি করছে, “এই ব্যাটা আস্ত ছাগল। এই পথের মাঝে ছাগলটা বাঁধলি কেন? এখানে মানুষ হাঁটাচলা করেনা। ছাগলের বাচ্চা ছাগল।’’ ছেলেটারও উত্তেজিত কণ্ঠ। নাম হাঁদা। সে বলল, “ দ্যহেন, মোরে যা কওয়ার কন মোর মা-বাপরে গাইল দেবেন না। কইয়া দিলাম। ” জগা খান বলল “ ঐ ছাগলের বাচ্চা তুই কি করবি?” এদিকে ছাগলটাও নড়ে-চড়ে দাঁড়ালো।

হঠাৎ ছাগলটি বলে উঠলো, “ম্যা–, ম্যা—-, তার শিং দুটো খাড়া হল। ব্যাটা ফাইজলামি পাইচো ? কতায় কতায় মোর নাম কও। মোর একটা স্ট্যাটাস আছে। মোরও দাম আছে। লোকজন মোরে দাম দিয়া কেনে। আর একবার মোর নাম নিবিনা কইয়া দিলাম।” লোকটিতো একেবারে হা হয়ে তাকিয়ে রইলো। ছেলেটিও অবাক। ছাগলটি এবার বলল— “ এর একটা বিহিত করতে হইবে। লোকজন মোগো কি পাইচে। ” হঠাৎ ছাগলটি হেলেটির হাত থেকে ছুটে গেল। এত দ্রুত দৌড় দিল যে ছেলেটি পিছন পিছন ছুটে তাকে ধরতে পারলনা। যেসব বাসাতে কোরবানির ছাগল আছে তার খোজ নিলো ঐ ছাগলটি এবং একটা একটা করে অনেকগুলো ছাগল মুক্ত করে দিল।

লোকজন তাদের ছাগল খুঁজে পাচ্ছেনা। বিভিন্ন জায়গায় লোকজন মাইকিং করে হারানো সংবাদ জানাতে লাগলো। যে ছাগলটি লিডার সে একটা জরুরী সমাবেশ ডাকলো। একটা উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে লাগলো। “ ছাগলসাব, আজ বড়ই দুঃখের সাথে কইতে আছি মানুষজনের অপমান দিন দিন বেড়েই চলতাছে। মোরা ছাগল সম্প্রদায়। মোগো একটা স্ট্যাটাস আছে। কিন্তু এই মানব সম্প্রদায় মোগো নাম দিয়া গালি দেয়। আর সহ্য করা যায়না। তাই আগামীকাল মোগো বিশেষ কর্মসূচি ছাগল-বন্ধন।’’ মোরা সংসদ-ভবনের সামনে হকলে “ছাগল-বন্ধন” করমু । চাইছেলাম হরতাল করমু , কিন্তু না এ্যাতে দ্যাশের ক্ষতি। তাই মোরা শান্তিপূর্ণভাবে মোগো কর্মসূচি পালন করমু। মোর প্রিয় ছাগল ভাই তোমারা কি রাজি???’’ সব ছাগল একত্রে ম্যা– ম্যা– বলে উঠলো । মানে তারা রাজি। ছাগল-বন্ধন তো করতে হবে। কিন্তু ব্যানার পাবে কোথায়! এবার একটি ছাগলকে দেয়া হল এর দায়িত্ব।

সে বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গেল যদি কিছু দেখা যায়। হঠাৎ বাড়ির দিকে নজর পরে শিং নাচিয়ে উঠলো। দেখতে পেল একটি দড়িতে সাদা কাপড় ঝুলছে। কেউ ছিলনা তখন বাড়িতে। সাদা কাপড়টি তার নাগালের মধ্যেই ছিল। মুখ দিয়ে ওটা নামিয়ে ফেলল। কাপড়টা নিয়ে সে লিডারের কাছে গেল। সে বলল-“ আনছি লিডার, অনেক কষ্টে।’’ লিডার ছাগল তাকে বাহবা দিল। লিডার এবারে বলল, “ কাপড়তো যোগাড় হল কিন্তু কি দিয়া ল্যকমু। ” এবার আরেক ছাগলকে পাঠানো হল। সে বিভিন্ন জায়গা ঘুরলো। হঠাৎ একটা স্কুলে বাচ্চাদের পড়ার শব্দ স্কুলের আশে পাশে সে কিছু সময় ঘুর ঘুর করলো, হঠাৎ কি যেন দেখে শিং নেরে আনন্দ প্রকাশ করলো। স্কুলের পাশে একটি মার্কার পরে থাকতে দেখে সেটি মুখে করে লিডারের কাছে নিয়ে গেল। লিডার তাকেও বাহবা দিল। এবার একজনকে ব্যানার লেখার দায়িত্ব দেয়া হল।

সে একটি ব্যানার লিখে ফেললো। তাতে লেখা হল— ১) “ ছাগল-বন্ধন সফল করুন” ২) “ ছাগল নামে গালি দিলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে।’’ কাজগুলো সম্পন্ন হলে লিডার সবার প্রশংসা করে বলল— “ ছাগল ভাইয়েরা আমার তোমাগো নিয়া মোর গর্ব অইতাছে। তোমরাই পারবে ছাগল সম্প্রদায়য়ের মান রাকতে।” পরের দিন— সবাই ব্যানার নিয়ে সংসদ ভবনের সামনে হাজির হল। সবাই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ালো। লিডার ও আরেক ছাগল দু দিক থেকে মুখ দিয়ে ব্যানার ধরল। লোকজন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল। টেলিভিশন ও পত্রিকা সাংবাদিকদের কাছে খবর গেল। সবাই এখানে হাজির। এবার “ কেষ্ট টিভি” থেকে এক সাংবাদিক এগিয়ে আসলো। দর্শকবৃন্দ, কেষ্ট টিভির থেকে আমি মিঃ কৈ কৈ, আমি দাঁড়িয়ে আছি কতগুলো ছাগলের সামনে । আমারা দেখতে পাচ্ছি একদল ছাগল দাঁড়িয়ে মানব-বন্ধন করছে। যেই কথাটা বলল আর শোনা গেল হাসির শব্দ। কে হাসছে! অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখল ছাগল গুলো হাসছে।

লিডার ছাগল বলে উঠলো— ব্যাটা আস্ত ছাগল, মোরা ছাগল হলে মানব-বন্ধন হয় ক্যামনে ! ম্যা হা হা, ম্যা হা হা। এবার হামকি ধমকি করে পুলিশ এসে বলল “ ঐ ছাগল চলে যা, নইলে পিটিয়ে তক্তা বানাবো।” লিডার বলে উঠলো “ দ্যহেন মোরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতাছি। এডা ছাগলতন্ত্রের অধিকার।, আমনাগু যদি গনতন্ত্র থাকতে পারে মোগো ক্যান্ ছাগলতন্ত্র থাকবে না। পুলিশ অবাক। “ কি বলে? ছাগলেও গনতন্ত্র বোঝে দেখছি। ” পুলিশ থেকে উপর মহলে ব্যাপারটা পৌঁছল। এবার পুলিশ তাদেরকে আশ্বাস দিলেন, “ আচ্ছা তোমাদের দাবি মানা হবে। ছাগল নাম দিয়ে কেউ গালি দিবেনা। এবার সবাই খুশি হল। তাদের মনে পড়ল মালিকরা তাদের খোঁজাখুঁজি করছে। তারা মালিকের অর্থের ক্ষতি করতে চাইলোনা । সবাই যে যার মালিকের বাড়ির দিকে রওনা হল এবং একই সুরে গাইতে লাগল………..বুন্ধু এ দেখাই শেষ দেখা নয়….আবার দেখা হবে নিশ্চয়….এপারে নয় ওপারে…………( বিদ্র: যেহেতু পরের দিন কোরবানি ) ।।

কূলবধূ

সাদা লোমের লাল ছাগল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *