
এবার কোরবানির ঈদে চারদিক থেকে গরু আসছে বলে শোনা যাচ্ছে—নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার… কারণ ভারত থেকে নাকি গরু না আসার সম্ভাবনা রয়েছে, এমনটাই পত্রপত্রিকায় পড়লাম। এক গরু ব্যবসায়ীকে টিভির খবরে বলতে শুনলাম,
“ভারত থাইকা গরু আইলে কইলাম আমরা ধরা…”
তার মানে ভারত থেকেও শেষ মুহূর্তে গরু আসার সম্ভাবনা আছে (প্রতিবারই শেষ মুহূর্তে তাই হয়)। অর্থাৎ এবারের ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এমন—একটা আন্তর্জাতিক গরুর হাট হতে যাচ্ছে দেশে! তিন-চারটা দেশের গরুর মেলা জমবে!
আগে যেমন কোরবানি ঈদ এলেই সবাই একটা কমন ফান করত—
—তুই কি গরু না ছাগল?
—আমি ছাগল, তুই গরু?
এবার হয়তো বলবে—
—তুই মিয়ানমার না ভুটান?
—মিয়ানমার। তুই?
—আমি ভুটান।
অনেকে আবার দেশে ঈদ না করে কোরবানি ঈদে আশপাশের দেশে বেড়াতে যায়—ভুটান, ভারত, নেপাল…। তার মানে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এমন, ভারত, নেপাল, ভুটানের গরুরা আমাদের দেশে এসে কোরবানি হচ্ছে আর দেশের পর্যটকরা ওই সব দেশে গিয়ে তাদের পকেট কোরবানি করছে… মানে ভাইস ভার্সা আর কী!
বরং একটা কৌতুক শেয়ার করা যাক—গরু, গরুর হাট-সংক্রান্তই।
এক সাংবাদিককে দেখা গেল, কাগজ-কলম নিয়ে বড় বড় গরুর হাটে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যেই সে নোট করছে তার নোটবুকে। এক লোক কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে গেল তার কাছে।
—ভাই, আপনি কী করছেন?
—আমি একজন সাংবাদিক। নোট নিচ্ছি।
—কিসের নোট?
—এবারের গরুর হাট তো মোটামুটি আন্তর্জাতিক গরুর হাট। ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার থেকে গরু আসছে, শেষ মুহূর্তে ভারত বর্ডার খুলে দিলে ভারত থেকেও আসতে পারে। তো আমি… কোন দেশ থেকে কত গরু আসছে, সেই হিসাব রাখার চেষ্টা করছি। পত্রিকায় গরুর হাট নিয়ে একটা বড় রিপোর্ট করব কি না!
—এটা কি সম্ভব? কত শত শত গরু আসছে, এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গুনবেন কীভাবে?
—সম্ভব, সম্ভব… আমার গোনার সিস্টেম সিম্পল।
—কী রকম? একটা একটা করে গরু গুনবেন?
—আরে না! আমি প্রথমে গরুগুলোর পা গুনি।
—পা গোনেন?
—হ্যাঁ, তারপর চার দিয়ে ভাগ দিই… ব্যস, গরুর প্রকৃত সংখ্যা বের হয়ে গেল!
শেষ খবর হচ্ছে, জার্মানি নাকি দুই পাটির দাঁতযুক্ত গরু উদ্ভাবন করেছে! অর্থাৎ গরুর ওপরের পাটিতে নকল দাঁত লাগিয়ে দিয়েছে। অবশ্য এই গরুর বাচ্চা হলে সেই বাছুরের ‘পরে দু’পাটি দাঁত হবে কি না, তা অবশ্য এখনো জানা সম্ভব হয়নি!