হযরত খায়ের নাসসাজ (রঃ) তাঁর কাছে থেকে বিদায় নিয়ে মক্কায় চলে গেলেন। সেখানে তিনি এত বেশী সম্মান ও মর্যাদা লাভ করলেন যে, হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রঃ) বলতে লাগলেন খায়ের আমাদের সত্যিই খায়ের (মঙ্গল)। হযরত খায়ের নিজেও চাইতেন সবাই তাঁকে খায়ের ডাকুক। তিনি বলতেন, একজন মুসলমান আমাকে যে নাম দিয়েছেন, আমি তা পরিবর্তন করব না। তাঁর আসল নাম ছিল আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল।
হযরত খায়ের নাসসাজ যখন দজলা নদীর তীরে বেড়াতে যেতেন, তখন নদীর মাছগুলি নানা জিনিস উঠিয়ে তাঁকে সম্মান জানাত। এক বৃদ্ধার জন্য তিনি একখানি কাপড় বোনেন। বৃদ্ধা বলেন, দাম দিতে এসে যদি আপনার দেখা না পাই তোকি করব? তিনি বললেন, আমাকে না পেলে আপনি দামটা দজলা নদীতে ফেলে দেবেন।
ঘটনা কিন্তু তাই ঘটল। তাঁর দেখা না পেয়ে বৃদ্ধা দজলা নদীতেই কাপড়ের দাম ফেলে দিলেন। তারপর হযরত যখন নদী তীরে গেলেন, তখন একটি মাছ পানি থেকে উঠে এসে তাঁর পায়ের কাছে টাকাগুলি রেখে দিল।
অনেক জ্ঞানী মানুষ বলেন, এ ধরনের ঘটনা আল্লাহর পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে। কিন্তু অন্যের ক্ষেত্রে তা হলেও হযরত খায়ের নাসসাজ (রঃ) – এর ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাতিক্রম ঘটে। যেমন হযরত সুলায়মান (আঃ) – এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়েছিল।
একবার তাঁর মনে হয়, হয়ত তাঁর বাড়ীর দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রঃ)। পরক্ষণে মনে হয়, এটি তাঁর মনের কল্পনামাত্র। অতএব, সে ধারণা মন থেকে সরিয়ে দিলেন। কিন্তু পরক্ষণে আবারও ধারণাটি মনের মধ্য উঁকি দেয়। তখন বাইরে গিয়ে দেখেন, সত্যিই হযরত জুনায়েদ (রঃ) দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বললেন, আমার উপস্থিতি সম্পর্কে আপনার মনে যখন প্রথম ধারণার উদয় হয়, তখন আপনি বেরিয়ে এলেন না কেন?
হযরত খায়ের নাসসাজ (রঃ) একদিন মাগরিবের নামাযের সময় হযরত আজরাঈল ফেরেশতাকে দেখে বললেন, আপনি কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন, আমরা দু’জনই আল্লাহর দাস। এ মুহূর্তে আপনার ওপর হুকুম রয়েছে আমার জান কবজ করা। আর ঠিক এ সময় আমার প্রতি হুকুম হয়েছে নামাযের ওয়াক্তে নামায আদায় করা। এখন আপনাকে যে হুকুম দেয়া হয়েছে তার অন্যথা হবে না। কিন্তু আমার প্রতি যে হুকুম হয়েছ তা যে অন্যথা হচ্ছে। কাজেই একটু অপেক্ষা করুন। আমি ওজু করে নামায আদায় করি। অতঃপর তিনি ওজু করে নামায পড়লেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ইন্তেকাল করলেন।
সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া
হযরত শেখ খায়ের নাসসাজ (রঃ ) – প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন