সেলামি

ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এই কয়টা দিন যেন অনামিকার কাটছেই না, এক একটা দিন মনে হচ্ছে এক একটা বছরের মতো। বাবা তার জন্য লাল টুকটুকে একটা জামা এনেছেন। তবে জামাটি সে আলমারিতে উঠিয়ে রেখেছে। সামি, পুতুল, ঝরা-ওরা যদি দেখে ফেলে তাহলে তো জামাটা পুরনো হয়ে যাবে, তাই না? তাদের উঠোন কোণে একটা উঁচু টিলা আছে। সেখান থেকে ঈদের চাঁদ দেখা যায়। তাই সে প্রতিদিন ইফতারির পর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে। কখনো কখনো তার বন্ধুদের নিয়ে চাঁদ ওঠার ঠিক জায়গাটা চিহ্নিত করার চেষ্টা করে।

প্রতিদিনের মতো সেদিনও সে আকাশে ঈদের চাঁদ দেখতে না পেয়ে মন খারাপ করে ঘরে বসেছিল। রাত ৮টার বাংলা সংবাদের মাধ্যমে সে জানতে পারলো দেশের কোনো এক অঞ্চলে ঈদের চাঁদ দেখা গেছে। তার খুশি আর ধরে না। রাত জেগে বান্ধবীদের সঙ্গে হাতে মেহেদি দেয়া সে তো অন্যরকম আনন্দ! খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে সবাই মিলে নদীতে গোসল করলো। নতুন জামা গায়ে দিয়ে সর্বপ্রথম মাকে সালাম করলো, মা তাকে নিজ হাতে সেমাই খাইয়ে দিলেন। তারপর একে একে সবাইকে সালাম করলো, আর সাথে সাথে তার ছোট্ট ব্যাগটিও সেলামিতে পূর্ণ হয়ে গেলো। বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে দলবেঁধে সবার বাড়িতে বেড়ানো, মজার মজার পিঠা, সেমাই খেতে কার না ভালো লাগে?
অনামিকাও সারাদিন তার বন্ধুদের সাথে ঘুরেছে। এর বাড়ি ওর বাড়ি, হরেক মজার খাবার খেয়ে খেয়ে একেবারে পেটুকবুড়ি যেন অনামিকার অবস্থা। কিন্তু একটা ব্যাপার তার মনটা খারাপ করে দিলো। আর ঘরে ফিরে সে হঠাৎ করে কান্নাকাটি শুরু করলো। মা কারণ জানতে চাওয়ায় কান্নার আওয়াজ আরো বেড়ে গেলো। সে কাঁদতে কাঁদতে ভাঙা গলায় বলল, আমার সব বন্ধুকে ঈদের সেলামি এক শ’ টাকা হয়ে গেছে আর সব মিলে আমার মাত্র ষাট টাকা। মা বিষয়টা বুঝতে পেরে আরো চল্লিশ টাকা দিয়ে দিলেন। ব্যাস অনামিকারও এক শ’ টাকা হয়ে গেলো।

এখন সে বন্ধুদের সমান। আসল ব্যাপারটা এক শ’ টাকা সেলামি নয়; অনামিকার সব বন্ধু মিলে তাদের প্রিয় বন্ধু হাসিনার জন্য পরীক্ষার ফি জোগাড় করে দেবে বলেছিলো। অনামিকা ছাড়া সবাই এক শ’ টাকা করে দিতে পারছিলো শুধু বাদ ছিলো সে। তাদের পরিবারের অবস্থাও যে খুব ভালো তাও নয়। কিন্তু বন্ধুকে সহযোগিতার পূর্ণ আনন্দ পাচ্ছিল না অনামিকা। আর তাই এই এক শ’ টাকা সেলামি তার ঈদ আনন্দকে বাড়িয়ে দিলো শত গুণে।

বাঘের আস্তানায় বাবলুরা

দেওয়ান বাড়ির সিন্দুক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *