ভৌতিকতার দিক থেকে সিলেট যে কারণে বিখ্যাত হয়ে আছে , সে কথায় আসছি এখন।
ভারতের বর্ডারের কাছে একটা ঘটনা ঘটেছিল। ঢাকার মিরপুরেও নাকি একই ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যায়। কি একটা অদ্ভূত জন্তু এসে নাকি ছোট বাচ্চাদেরমাথা, গলা , পেট পর্যন্ত খেয়ে ফেলে !!সিলেটে এটা নাকি নৈর্মিত্তিক ব্যাপার !! সিলেটের চা বাগানের লোকেদের কাছে যদিএই ব্যাপারে জানতে চান, তো তারা আপনাকে একটা নামই বলবে। আর সেটা হলো”জুজু !” এই জুজু ওইজা বোর্ডের ডেভিল জোজো নয়। এটা সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। ওইজা বোর্ডের জোজোর কথা না অনেক মানুষ চিনে অথবা জানে। কিন্তু সিলেটের চা বাগান গুলোতে জুজুর জনপ্রিয়তা দেখার মত !! জুজু লোমশ একটা জীব। এর চোখ লাল টকটকে। ছোট বাচ্চাদের দিকেই এর নজর বেশী। এক মহিলা তার বাচ্চা কে ঘুম পাড়িয়েআরেক রূমে টিভি দেখতে চলে গেল। কাজের মেয়েটা বাচ্চার রূমে এসেই গলাফাটিয়ে একটা চিত্কার দিল। মহিলা দৌড়ে রূমে এসে দেখলেন কাজের মেয়েটাঅজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে, আর লোমশ একটা জীব বাচ্চাটাকে জানালা দিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। বাচ্চাটা হাত পা ছোড়াছুড়ি করছিল। মহিলাকে দেখেই জীবটা বাচ্চাটাকে ফেলে লাফ দিয়ে চা বাগানের ভিতর হারিয়ে যায়।
এক বাচ্চা কোন কারণে খাবার খেতে চাইছিলনা। তার মা তাকে জোর করে খাওয়াতে চেষ্টা করছিলেন। এক পর্যায়ে মহিলা বললেন,” তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও। না হলে জুজু আসবে।” কাছেই একটা চা বাগান থেকে একটা শব্দ মহিলা শুনতে পেলেন, “জুজু আসবে।” মহিলা এটাকে পাত্তা দিলেন না। ভাবলেন যে মনের ভূল। খানিক পর বাচ্চাটা আবার বাহানা শুরু করলে মহিলা বিরক্ত হয়ে বললেন,” এই খাও বলছি। জুজু আসবে কিন্তু বলে দিলাম।”এবার মহিলা আগের বারের মতই কিন্তু অনেক কাছে শব্দ শুনলেন যে,” জুজু এসেছে !” মহিলা ভয় পেয়ে গেলেন। ব্যাপারটা তার স্বামীকে বলার জন্য বাচ্চাটাকে ডাইনিং রুমে বসিয়ে অন্য রুমে গেলেন। তিনি যখনই তার স্বামীকে এই শব্দের ব্যাপারটা বলছিলেন, হঠাত্ তারা দুজনই শেষ বারের মত শব্দটা শুনলেন। এইবার শব্দটা ছিল এরকম : “জুজু খাচ্ছে !” “জুজু খাচ্ছে !” তারা দৌড়ে ডাইনিং রুমে গেলেন। গিয়ে দেখলেন, কালো লোমশ একটা প্রাণীজানালা দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে। আর তাদের বাচ্চা? বাচ্চাটাকে অর্ধেক খেয়ে ফেলা হয়েছে! জুজু নিয়ে চা বাগানের এটাই সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা।
চা বাগানে প্রায়ই কাজ করার সময় ছোটছোট বাচ্চা নিখোঁজ হয়। পরে তাদের মাথা কাটা লাশ পাওয়া যায়। কার কাজ কেউই জানে না। আপনার ঘরেও হয়তো ছোট বাচ্চা আছে। তাদের আপনি জুজুর ভয় দেখান ভালো কথা, কিন্তু জুজু থেকে তারা নিরাপদে আছে তো? চোখের সামনে কচর কচর করে একটা বাচ্চাকে খেয়ে ফেলতে দেখাটা কেমন লাগবে একবার ভাবুন তো??
"আলোর পথ"-এ প্রকাশিত গল্পসমূহ ও লেখনী মূলত পাঠক, শুভাকাংখী এবং সম্মানিত আবেদনকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কনটেন্টগুলোর উপর আমরা কোনো মেধাসত্ত্ব (copyright) দাবি করি না। যদি কোনো গল্প, ছবি বা তথ্যের কপিরাইট সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার প্রশ্ন, সংশয় বা আপত্তি থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে আমাদের যোগাযোগ পৃষ্ঠায় যোগাযোগ করুন। আমরা যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।