মনে আল্লাহ তা’আলার ভয় – শেষ পর্ব

মনে আল্লাহ তা’আলার ভয় – প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

শায়েখ বলল, তুমি কি জানতে চাও বল। যুবক জিজ্ঞেস করল, খোদাভীতির আলামত কি? তিনি বললেন, দুনিয়ার সকল বস্তুর ভয় অন্তর হতে দূরীভূত করে একমাত্র আল্লাহ পাকের ভয় অন্তরে বিরাজ করা। এটাই খোদাভীতির আলামত। এ কথা শুনামাত্র যুবক বিচলিত হয়ে জ্ঞান  হারাল। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে এলে সে আবার জিজ্ঞেস করল, বান্দা কিভাবে এটা অনুভব করবে যে, তার অন্তরে খোদা ভীতির সৃষ্টি হয়েছে? সে বললেন, দুনিয়ার মোহ এমন ভাবে ত্যাগ করা, যেমন কোন অসুস্থ ব্যক্তি রোগবৃদ্ধির আশঙ্কায় মজাদার খানাপিনা ত্যাগ করে তিক্ত ঔষদের উপর সবর করে থাকে। তদ্রূপ আল্লাহর ভয়ে ভীত ব্যক্তিও দুনিয়ার যাবতীয় মোহ  ও স্বাদ ত্যাগ করে থাকেন। শায়েখের এ জবাব  শুনামাত্র যুবক এমন বিকট শ্বরে চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল যে, আমরা মনে করলাম যুবকের মৃত্যু হয়েছে, দীর্ঘ সময় পর জ্ঞান ফিরে এলে সে পুরনায়  জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর ওলী! বলুন আল্লাহ পাকের মোহাব্বতের আলামত কি? উত্তরে তিনি বললেন, হে বন্ধু! এটা অনেক উচ্চাঙ্গের বিষয়। যুবক জিজ্ঞাসা করল আমাকে সামান্য বলুন। বললেন- মানুষের অন্তরে যখন আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হয় তখন তার অন্তর হতে হেজাব ও পর্দা উঠিয়ে দেওয়া হয়। অতঃপর সে অন্তরে সৃষ্ট নূরের সাহায্যে আল্লাহ পাকের আজমত ও উচ্চ মর্যাদার অবলোকন করতে থাকে। সে ফেরেশতাদের দলভুক্ত হয়ে তাদের সকল ক্রিয়াকর্ম স্বচক্ষে দেখে। ঐ সময় সে নিজের সর্বশক্তি নিয়োগ করে আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত হয়। অথচ ঐ ইবাদতের বিনিময়ে সে জান্নাতও কামনা করে না আর তার অন্তরে জাহান্নামের ভয়ও সৃষ্টি হয় না। বুজুর্গের এ জবাব শুনে যুবক বিকট শব্দে এক চিৎকার দিয়ে সাথে সাথে প্রান হারাল। বুজুর্গ যুবককে চুম্বন করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, এটাই খোদাভীতি ও আল্লাহর মোহাব্বতের আলামত।

অপর এক ঘটনার উল্লেখ করে হযরত জুন্নন মিশরী (রহঃ) বলেন, একদা আমি সিরিয়ার একটি সবুজ শ্যামল বাগানে বিচরণ করছিলাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম একটি সেব বৃক্ষের নিচে এক যুবক নামায পড়ছে। আমি এগিয়ে গিয়ে তাকে  সালাম করলাম। কিন্তু সে আমার সালামের কোন জবাব দিল না। আমি দ্বিতীয়বার তাকে সালাম করলে সে নামায শেষ  করে মাটির উপর আঙ্গুল দ্বারা নিম্নোক্ত বয়াতটি লিখল-

অনুবাদঃ জবানকে  কথা বলতে এ জন্য নিষেধ করা হয়েছে যে, জবানই মানুষকে বিবিধ বালা মুসীবতের দিকে আকর্ষন করে। সুতরাং তুমি যখন কিছু বলবে তখন আল্লাহর কথা বলবে। আল্লাহকে কখনো ভুলবে না এবং সকল সময় তার প্রশংসা বা হামদ করবে।

হযরত জুন্নন মিশরী (রহঃ) বলেন, যুবকের এ বয়াত পাঠ করলে আমি স্তব্দ হয়ে গেলাম। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আমার দু চোখ ভরে অজস্র ধারায় অশ্রু প্রাবাহিত হতে লাগল। পরে আমিও এর জবাবে আঙ্গুল দ্বারা নিম্নোক্ত বয়াতটি লিখলাম।

অনুবাদঃ হযরত জুন্নন মিশরী (রহঃ) বলেন, যুবক আমার লেখা পাঠ করার সাথে সাথে বিকট শব্দে এক চিৎকার দিয়ে সাথে সাথে প্রাণ ত্যাগ করল। পরে আমি তার গোছল ও কাফন দাফনের আয়োজন করতে ছিলাম। এমন সময় গায়েব হতে আওয়াজ এল, হে জুন্নন! তুমি তাকে ছেড়ে দাও। আল্লাহ পাক কাফন-দাফন সম্পন্ন করাবেন। হযরত জুন্নন (রহঃ)  বলেন, আমি আওয়াজ শুনার পর সরে এসে সেই বৃক্ষের নীচে নামায পড়তে আরম্ভ করলাম। কয়েক রাক’আত নামায পড়ার পর দেখলাম সেখানে সেই যুবকের লাশের কোন চিহ্নমাত্র নেই।

মনে আল্লাহ তা’আলার ভয় – প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

মনে আল্লাহ তা’আলার ভয় – পর্ব ১

সাখাওয়াত