নবুওয়াতের তখন একদম শিশুকাল। নবুওয়াতের বাতি জ্বলছে। জ্বলছে মক্কার ছোট গণ্ডির মধ্যে। জাহিলিয়াতের অন্ধকার এই আলোকশিখাকে গলাটিপে মারার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় রত। কিন্তু নবুওয়াতের আলোকশিখা যে আলোক শিশু তৈরি করেছে, তারা জগতজোড়া সহনশীলতা নিয়ে নীরবে আত্মরক্ষা করছে। এ ধরনেরই এক আলোকশিশু হযরত সুহাইব (রা)। অত্যাচারের স্টিম রোলার চলছে তাঁর উপর। চরম সহনশীলতার প্রতীক সুহাইব সব অত্যাচার নীরবে সহ্য করছেন।
আল্লাহর এ সৈনিকদের উপর এ অমানুষিক নির্যাতন কতদিন মহানবী (সাঃ) সহ্য করবেন, তাঁর প্রাণ কেঁদে উঠল। সকলের মতো সুহাইবকেও মহানবী (সাঃ) একদিন মক্কা থেকে হিজরাত করার নির্দেশ দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে সুহাইব সিদ্ধান্ত নিলেন হিজরাতের। মহানবীর (সাঃ) নির্দেশের কাছে, ইসলামের জন্য ত্যাগ স্বীকারের কাছে, স্বদেশের মায়া, নিজের সহায়-সম্পদের মায়া মুহূর্তে উবে গেল। কাউকে কিছু না বলে একদিন হিজরাতের উদ্দেশ্যে বের হলেন সুহাইব। সাথে পরিধানের পোশাকটুকুও, আত্মরক্ষার জন্য কিছু অস্ত্র ছাড়া আর কিছুই নেই। সুহাইবের এ যাত্রা কুরাইশ চরদের চোখে ধরা পড়ল।
সংবাদ পেয়ে ছুটে এল একদল কুরাইশ। তারা সুহাইবকে জোর করে ধরে নিয়ে যেতে চায় মক্কায়। সুহাইব মক্কার বাইরে এসে বললেন, “দল পাকাবে, মুসলমানদের দল ভারী করবে কুরাইশরা—তা হতে দেবে কেন? আমি একাই রুখে দাঁড়ালাম কুরাইশ দলের বিরুদ্ধে। তোমরা জান, আমি তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ তীরন্দাজ। আমার হাতে একটি তীর থাকা পর্যন্ত কেউ আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। তীর ফুরিয়ে গেলে তরবারি আছে। তরবারি ভেঙ্গে গেলে কিংবা হাতছাড়া হলে তারপর তোমরা আমাকে যা খুশি করতে পার।
এত কিছুর চেয়ে বরং ভালো, তোমরা মক্কায় আমার যা কিছু মাল-সম্পদ আছে সব নিয়ে নাও, আর আমি চলে যাই।”
কুরাইশ দল অর্থের সন্ধান পেয়ে সুহাইবকে ধরার বিপদপূর্ণ ঝুঁকি নিতে চাইলো না। তারা পথ ধরল মক্কার, আর সব বিসর্জন দিয়ে, মাতৃভূমির মায়া কাটিয়ে রিক্ত-নিঃস্ব সুহাইব অনিশ্চিত পথে পাড়ি জমালেন। এদের সম্পর্কেই আল কুরআন বলেছে:
“এমনও লোক আছে যারা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য নিজের জীবনকে কিনে নেয়, আল্লাহ নিজের বান্দাদের উপর সর্বদাই দয়াশীল।”
মহানবীর (সাঃ) হিজরাতের পর মদীনার সন্নিকটবর্তী পল্লীতে একটি দিন নবীর (সাঃ) সাথে সাক্ষাৎ ঘটল সুহাইবের। নবি তাঁকে কাছে ডেকে বললেন,
“বড় লাভের ব্যবসাই করলে, সুহাইব।”
সুহাইবকে উঁচু মর্যাদা দিতো সকলেই। হযরত উমার (রা.) তাঁর মুমুর্ষ অবস্থায় আসিয়াত করেছিলেন, তাঁর জানাযায় নামাজ সুহাইবের দ্বারা পড়ানো হয়।
"আলোর পথ"-এ প্রকাশিত গল্পসমূহ ও লেখনী মূলত পাঠক, শুভাকাংখী এবং সম্মানিত আবেদনকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কনটেন্টগুলোর উপর আমরা কোনো মেধাসত্ত্ব (copyright) দাবি করি না। যদি কোনো গল্প, ছবি বা তথ্যের কপিরাইট সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার প্রশ্ন, সংশয় বা আপত্তি থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে আমাদের যোগাযোগ পৃষ্ঠায় যোগাযোগ করুন। আমরা যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।