নমরুদের গজবী মৃত্যু-পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন
নমরুদ ঘোড়সওয়ার, পদাতিক ও যন্ত্র বিশেষজ্ঞ সৈনিকদেরকে তিনদিনের মধ্যে ব্যাবিলণের উন্মুক্ত ময়দানে সমবেত হয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। মহারাজার হুকুম অনুসারে সারা দেশে সমর সজ্জা আরম্ভ হল। সেনাবাহিনীকে তৃপ্তি দান কল্পে মহিলা ব্যাটেলিয়ন পর্যন্ত ময়দানে হাজির হতে দ্বিধা বোধ করল না। দু’দিনের মধ্যে ব্যাবিলনের উন্মুক্ত ময়দান সেনাছাউনিতে ভরে গেল। আঠার শত বর্গমাইল জুড়ে সেনাবাহিনী তাবু খাটাল। সেখানে সাধারণ সৈন্য, ডাক্তার, নার্স, বৈজ্ঞানিক ও প্রমোদ বালাদের সাথে আট লক্ষ বর্ম পরিহিত অশ্বারোহী সৈন্য মোতায়েন ছিল। সে এক বিশাল আয়োজন।
নমরুদ সেনা মোতায়নের কাজ সমাপ্ত করে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) – কে খবর দিল। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) নমরুদের সম্মুখীন হলে সে বলল, কোথায় তোমার খোদা এবং কোথায় তার সৈন্য সামন্ত? হযরত ইব্রাহীম (আঃ) বললেন তুমি যে সামান্য প্রস্তুতি নিয়ে আমার আল্লাহর মোকাবেলার জন্য অগ্রসার হয়েছ এটা অত্যন্ত হাস্যকর। আমার আল্লাহ ইচ্ছে করলে ক্ষুদ্র প্রাণী মশক দ্বারা তোমার এ বিশাল বাহিনী নিমিষের মধ্যে খতম করে দিতে পারেন। নমরুদ নবীর কথা শুনে এক অট্টহাসি দিয়ে বললেন, তোমার আল্লাহর ক্ষমতা থাকে তো সম্মুখে আস্তে বল।
তোমার আল্লাহকে আমি অনেক পূর্বে খতম করেছি। এখন যদি তার কিছু সেনা সৈন্য থাকে তাও আমার এক পলকে ধুলিস্মাৎ করে দেব। ইব্রাহীম! ভালভাবে ভেবে দেখ। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাকে হয়রান করার পরিণাম তোমার জন্য বিপদজনক। তার চাইতে বরং তুমি আমাকে খোদা বলে স্বীকার করে নাও। এটা তোমার জন্য সর্বত্তম বলে আমি মনে করি। আমি তমাকে পাঁচটি রাজ্যের অধিপতি করে উহার শাসনভার তোমার হাতে তুলে দেব। তুমি সেখানে স্বাধীনভাবে মহা আরামে রাজত্ব করবে এবং সুখে দিন কাটাবে। তোমার চাকর নকর দাসী বাধীর প্রাচুর্যসহ ধন সম্পদের পাহাড় তোমার পায়ের নিচে পড়ে থাকবে।
চিরদিনের জন্য তোমার ও আমার মাঝে এক শুভ সুহৃদ্যতা বজায় থাকবে। এমনকি তুমি যদি চাও তবে আমি আরো দশ, বিশটা রাজ্য তোমাকে অর্পণ করব। আমি আমার নিজের কছম খেয়ে তোমাকে এ অঙ্গিকার দিচ্ছি। পৃথিবী লয় হয়ে যেতে পারে কিন্তু আমার অঙ্গিকার সামান্যতম ব্যতিক্রম হতে পারে না। যদি তুমি আমাকে বিশ্বাস কুরতে না পার তাহলে এখনই আমি আমার সমাবেশকৃত সেনাবাহিনীর মোকাবেলার সমস্ত কথা লিখে দিতে সম্মত আছি। এতএব বিষয়টি শেষ বারের মত ভেবে দেখ।
সূত্রঃ কুরআনের শ্রেষ্ঠ কাহিনী