খন্দকের এক শহীদ—আমরা সেই সে জাতি –– আবুল আসাদ

খন্দক যুদ্ধ তখন শুরু হয়ে গেছে। মদীনার আউস গোত্রাধিপতি সা’দ ইবন মায়াজ যুদ্ধসাজে সজ্জিত হয়ে রণাঙ্গনে যাচ্ছেন। বনু হারিসার দুর্গের পাশ দিয়ে যাবার সময় দুর্গের উপরে উপবিষ্ট সা’দের মা বললেন, “বাছা, তুমি তো পিছনে পড়ে গেছ, যাও তাড়াতাড়ি।”

যুদ্ধকালে মারাত্মকভাবে তীরবিদ্ধ হলেন মায়াজ। যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হলো না। মহানবী (সাঃ) তাঁকে তাড়াতাড়ি মসজিদের সন্নিকটবর্তী এক তাঁবুতে নিয়ে এলেন। মায়াজ আর যুদ্ধে যেতে পারলেন না। তাঁর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে লাগলো। কিন্তু নিজের দিকে তাঁর কোনো খেয়াল নেই; তাঁর বড় চিন্তা, ইসলামের শত্রুর বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ করতে পারছেন না। আর একটি চিন্তা তাঁর মনকে আকুল করে তুলছিল—তিনি যদি এ আঘাতে মারা যান, তাহলে ইসলামবিরোধী কুরাইশদের চরম শিক্ষা দেওয়ার ঘোরতর যুদ্ধগুলোতে তিনি আর শরিক থাকতে পারবেন না।

মায়াজ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানালেন, “হে আল্লাহ, কুরাইশদের সাথে যদি যুদ্ধ অবশিষ্ট থাকে তাহলে আমাকে জীবিত রাখুন। তাদের সাথে যুদ্ধ করতে আমার খুব সাধ জাগে, কারণ তারা আপনার রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে, তাঁর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে এবং মক্কা থেকে বহিষ্কার করেছে। আর যদি কোনো যুদ্ধ না থাকে, তবে এ আঘাতেই যেন আমার শাহাদাত লাভ হয়।”

খন্দক যুদ্ধের পর কুরাইশদের সাথে প্রকৃত অর্থে আর কোনো বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। মক্কা বিজয়ের সময় ছোটখাটো সংঘর্ষ ছাড়া বড় রকমের কোনো যুদ্ধ আর হয়নি।

খন্দক যুদ্ধ শেষ হলো, হযরত মায়াজ আর সেরে উঠলেন না। শাহাদাতের দিকে তিনি এগিয়ে চললেন। মসজিদে নববীর তাঁবুতেই তখন তিনি ছিলেন। শাহাদাতের পরম মুহূর্ত একদিন ঘনিয়ে এল তাঁর। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন হযরত মায়াজ।

সংবাদ পেয়ে মহানবী (সাঃ) ছুটে এসে মায়াজের মাথা কোলে তুলে নিলেন। সৌম্য শান্ত, পরম ধৈর্যের প্রতীক আবু বকর (রা) তাঁর মৃতদেহের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলে উঠলেন, “আমার কোমর ভেঙে গেছে।” মহানবী (সাঃ) আবু বকরকে (রা) সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, “এরূপ কথা বলা চলে না, আবু বকর।” সিংহ–হৃদয় হযরত উমার (রা) মায়াজের পাশে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন।

আরো পড়ুন  হযরত হাসান বসরী (রঃ) - পর্ব ২০

সংবাদ শুনে মায়াজের মা ছুটে এলেন। তাঁর চোখে অশ্রু, কিন্তু মুখে তিনি বললেন, “বীরত্ব, ধৈর্য ও দৃঢ়তার মধ্য দিয়ে সা’দ সৌভাগ্যশালী হয়েছে।”

"আলোর পথ"-এ প্রকাশিত গল্পসমূহ ও লেখনী মূলত পাঠক, শুভাকাংখী এবং সম্মানিত আবেদনকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কনটেন্টগুলোর উপর আমরা কোনো মেধাসত্ত্ব (copyright) দাবি করি না। যদি কোনো গল্প, ছবি বা তথ্যের কপিরাইট সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার প্রশ্ন, সংশয় বা আপত্তি থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে আমাদের যোগাযোগ পৃষ্ঠায় যোগাযোগ করুন। আমরা যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সম্পর্কিত পোস্ট

দুঃখিত!