কাবুসের বাদশাহী লাভ-পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন
মৃত্যুকালে তাঁর কতিপয় পুত্র ও পৌত্র ছিল, কিন্তু তাদের রাজসিংহাসন ভাগ্যে জোটেনি। যেহেতু মৃত রাজার পাত্র-মিত্র ও দেশের জনসাধারণ সকলেই ছিলেন কাবুসভক্ত, অতএব তারা সকলে মিলে তাকেই রাজসিংহাসনে বসিয়ে দিল। এভাবেই কাবুস তার উচ্চাকাঙ্ক্ষার মূল লক্ষ্যে উপনীত হলো।
এতদিন যদিও কাবুস মিশররাজ্য নিজের হাতেই পরিচালনা করে আসছিল, তবু তার উপরে বাদশা উপাধিধারী এক ব্যক্তির অস্তিত্ব ছিল। এবার আর তাও রইল না। সে বাদশাই এখন স্বয়ং কাবুস। এখন সে নিজের ইচ্ছানুযায়ী যা খুশি তাই করতে পারে—তার উপরে প্রশ্ন করার কেউ নেই।
কাবুসের দোষের সঙ্গে গুণেরও অভাব ছিল না। সে তার পূর্ব বন্ধু হামানের কথা সর্বক্ষণ মনে রেখেছিল। এবার বাদশাহ হয়ে সর্বপ্রথম হামানকে তার প্রধানমন্ত্রীর পদে নিযুক্ত করল। হামান এমন অভাবনীয় পদমর্যাদা লাভ করে মনে মনে কাবুসের কাছে চিরকৃতজ্ঞ হয়ে থাকবে বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো।
বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতায় হামানও যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল। তাই সে প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করে যথাযথভাবে স্বীয় দায়িত্ব পালন করতে লাগল।
আল্লাহ তায়ালার লীলা-খেলা বোঝা মানুষের পক্ষে ভার। যে কাবুস ও হামান—দুটি লম্পট যুবক—মিশরের এক গণ্ডগ্রামে লাম্পট্য ও দুষ্কর্ম দ্বারা মানুষের কাছে ছিল ঘৃণিত ও বিরক্তির পাত্র, অদৃষ্টের জোরে তাদের একজন আজ মিশরের একচ্ছত্র রাজাধিরাজ, আর অন্যজন তার ডান হাত প্রধান উজির।
উন্নতির উচ্চ মার্গে আরোহণ করে উভয়ই এবার ভীষণ গর্বিত হয়ে পড়ল। বহু প্রাচীনকালে মিশর রাজ্যে রামশিস নামে এক প্রবল পরাক্রমশালী বাদশাহ ছিলেন। কাবুস বাদশাহ হয়ে তাঁর নামের অনুকরণে “রামশিস” নাম ধারণ করে নিজেকে “দ্বিতীয় রামশিস” নামে প্রচার করল। পূর্বে মিশরের সকল শাসকগণই ‘ফেরাউন’ নামে অভিহিত হতেন। সে হিসেবে কাবুস ওরফে দ্বিতীয় রামশিসও সেই একই খেতাবে ভূষিত হলো। ফেরাউনগণের মধ্যে এই নামের প্রসিদ্ধি সর্বাপেক্ষা বেশি।
এই প্রসিদ্ধি ঘটেছে তার কুকর্মের দ্বারা, কোনো সৎকর্মের দ্বারা নয়। সেই কুকর্মের কাহিনি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে উল্লেখ করেছেন। আর এই কারণেই ফেরাউন সারা বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়েছে। এখনও তার সেই নাম লোকের মুখে মুখে আছে। মনে হয়, যতদিন জগৎ থাকবে ততদিন মানুষ তার নাম ভুলবে না।
কাবুস গৃহত্যাগ করার কিছুদিন পরেই তাঁর বৃদ্ধ শোকাতুর পিতা মৃত্যুবরণ করলেন। আর তারও কিছুদিন পরে তাঁর পুত্রশোকে বিভোর জননীও সেই একই পথের পথিক হলেন।
অতঃপর, এখন এ পরিবারে একাকিনী আছিয়া ব্যতীত আর কেউ রইল না।
আছিয়া তাঁর শ্বশুর প্রদত্ত বিপুল অর্থ ও জমিজমার মালিক হয়ে ভাবছিলেন—তিনি এই সম্পদ দ্বারা কী করবেন! সতী-সাধ্বী নারীর প্রধান সম্পদ তার স্বামী; যার সেই সম্পদ নেই, তার নিকট অতুল ঐশ্বর্য, জমিজমা, বাড়িঘর—সবকিছুই অসার। বাইরে থেকে তিনি সম্পদশালিনী বটে, কিন্তু অন্তরে তিনি রিক্ত; মন তার শূন্য। সুখ বা শান্তির লেশমাত্রও তার নেই।
বিবি আছিয়া স্বামী থাকা সত্ত্বেও স্বামীহারা নারীর মতো জীবনযাপন করছিলেন। তাই তাঁর মনও তদ্রূপ শূন্য ও নিরানন্দ। দুনিয়াতে সুখ বলতে কী বস্তু বোঝায়—তা তাঁর জানা ছিল না। এত বিপুল সম্পদ দ্বারা তাঁর প্রয়োজনই বা কী? তিনি ভাবলেন—এই অর্থ দিয়ে কী করবেন? কে ভোগ করবে এই সম্পদ? বরং এই অর্থ তাঁর কাছে সুখ ও শান্তির পরিবর্তে দুঃখ ও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল। এটি তাঁর কাছে এক অনাহূত বোঝার মতো মনে হতে লাগল।
তিনি মনে করলেন, এই বোঝা মাথার উপর থেকে ঝেড়ে ফেলে ভারমুক্ত হওয়াই শ্রেয়। আর যদি এই সম্পদের মাধ্যমে নিঃস্ব ও গরিবদের কিছু উপকার করা যায়, তবে তা হবে পূণ্য অর্জনের মাধ্যম।
সে সময় তাঁর স্বগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রামসমূহে বনী ইসরাইলের অধিবাসীগণ চরম অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছিলেন।
"আলোর পথ"-এ প্রকাশিত গল্পসমূহ ও লেখনী মূলত পাঠক, শুভাকাংখী এবং সম্মানিত আবেদনকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কনটেন্টগুলোর উপর আমরা কোনো মেধাসত্ত্ব (copyright) দাবি করি না। যদি কোনো গল্প, ছবি বা তথ্যের কপিরাইট সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার প্রশ্ন, সংশয় বা আপত্তি থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে আমাদের যোগাযোগ পৃষ্ঠায় যোগাযোগ করুন। আমরা যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।