এক. মঙ্গলমান ‘দিবালোক’ তিপ্পান্নটা শূন্য মিনিট পনের সেকেন্ড। এসসি-টোয়েন্টি ফাইভ এটেনডিয়ার এলিয়ন তখনও নিষ্ঠার সাথে পৃথিবী থেকে পাঠানো ইনটেনসিটি গ্রাফ অপারেট করে চলেছেন। এভাবেই টানা পঞ্চাশ ঘণ্টা ডিউটি শেষ করে ‘নিশিলোক’ শুরু হলে তাকে একশটা শূন্য মিনিট শূন্য সেকেন্ডে শিফট থেকে বিদায় নিতে হবে। এলিয়নদের ম্যাগাপ্রভিন্সে যারা কাজ করেন তাদের এ নিয়মটা মেনে চলতেই হয়। এখানে পৃথিবীর মতোই সেকেন্ডের একক মান এক। কিন্তু একশ সেকেন্ডে হয় এক মিনিট আর একশ মিনিটে হয় এক ঘণ্টা। এই ঘণ্টার হিসাব মেপে দিন-রাতের তিন ভাগের এক ভাগ মানে পঞ্চাশ ঘণ্টা ‘দিবালোক’-এ ডিউটি করা প্রিমিয়ার এলিয়ন থেকে সাধারণ এলিয়ন কর্মী পর্যন্ত সবার জন্য বাধ্যতামূলক।
কারণ এখানে মোট দেড় শ’ ঘণ্টায় হয় পূর্ণ একদিন। এই দিনের সূচনাটা হয় ‘শূন্য-শূন্য-শূন্য’ মান ধরে। অর্থাৎ চব্বিশ আওয়ার ধরে যেমনি গ্রিনিচমান সময়ে দিনের হিসাব চলে তেমনি এলিয়নদের ম্যাগাপ্রভিন্সে টানা একশ পঞ্চাশ আওয়ার ধরে দিনের হিসাব চলে। ওই হিসেবে এলিয়নদের ‘মঙ্গলমান দিনের’ এক তৃতীয়াংশ মানে ‘নিশিলোক’ কাটে বিনোদন, বিশ্রাম আর স্বাস্থ্যপরিচর্যায়। বাকি পঞ্চাশ ঘণ্টা অর্থাৎ ‘মেঘুলিলোক’ এলিয়নদের জন্য বরাদ্দ করা আছে ইবাদত, জ্ঞানচর্চা আর পারস্পরিক মতবিনিময়ের জন্য। ফলে ছকবাঁধা দিনাতিপাতের মাঝেও ম্যাগাপ্রভিন্সের ‘দিবালোকে’ যেমনি কোনো কর্মফাঁকির সুযোগ নেই, তেমনি সরকারের পক্ষ থেকে এলিয়নদের প্রতি ইনসাফেরও ঘাটতি নেই।
এলিয়নদের মৌলিক সব চাহিদা পূরণ করেন মঙ্গলমান সরকার। পৃথিবীর চব্বিশ ঘণ্টা দিনে রাতে বিভক্ত হলেও এলিয়নদের ম্যাগাপ্রভিন্সে সূর্যের প্রখর তাপে উজ্জ্বল আলোর ভেতর দিয়ে পঞ্চাশ ঘণ্টায় এই ‘দিবালোক’ পেরোয়। এরপর শুরু হয় টানা পঞ্চাশ ঘণ্টার ‘নিশিলোক’। এ সময়টি বিনোদন, বিশ্রাম, স্বাস্থ্যপরিচর্যা আর গভীর ঘুমে কাটিয়ে দেয় এলিয়নরা। তখন তাদের ম্যাগাপ্রভিন্সের পুরো নিরাপত্তার দায়িত্ব সামাল দেয় রোবো ডিফেন্স স্কোয়াড। সংক্ষেপে এর নাম ‘রোডিস্কো’।
এই ‘রোডিস্কো’ নামক স্কোয়াড মানে পৃথিবীর মতো ছোটখাটো কোন নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষা ইউনিট নয়। সারা পৃথিবীর সামরিক শক্তিকে একত্র করলেও এই স্কোয়াডের সামনে এক ঘণ্টা টিকে থাকার শক্তি নেই। ফলে পৃথিবী থেকে প্রায় চার শ’ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ও পৃথিবী থেকে এক হাজার গুণ বড় এলিয়নদের ম্যাগাপ্রভিন্সের এলিয়নরা নিশ্চিন্তে নাক ডেকে রাতভর শান্তিতে ঘুমোতে পারে। তাদের এই ‘নিশিলোক’ শেষ হলে শুরু হয়ে যায় পঞ্চাশ ঘণ্টার ‘মেঘুলিলোক’। তখন এলিয়নদের আনন্দের সীমা থাকে না। এসময়টায় এলিয়নদের ম্যাগাপ্রভিন্সের আকাশে থাকে চাঁদের আলোর মিষ্টি আমেজ, আকাশজুড়ে ভেসে বেড়ায় হাজারো রঙের মেঘরাশি। অথচ এসব মেঘ মিষ্টি চাঁদোয়াকে এক পলকের জন্যও ছেয়ে ফেলে না। পৃথিবীতে মূষলধারায় বৃষ্টি হয়ে যাবার পর যেমন নির্মল ও ধূলিমুক্ত বাতাস খেলা করে- এ সময়টিতে এখানেও থাকে তেমনি সুনসান হাওয়া। না গরম, না ঠান্ডা। কেমন একটা জান্নাতি পরিবেশ যেন ছড়িয়ে পড়ে।
তাই এলিয়নরা ‘মেঘুলিলোক’কে বেছে নিয়েছে ইবাদত, জ্ঞানচর্চা আর পারস্পরিক মতবিনিময়ের মোক্ষম সময় হিসেবে। এভাবে পঞ্চাশ ঘণ্টা পেরিয়ে শেষ হয় ‘মেঘুলিলোক’। আবার শুরু হয় ‘দিবালোক। এভাবেই লাখ লাখ বছর ধরে চলে আসছে এলিয়নদের মহাজাগতিক রাজ্য। যাকে ওরা বলে ‘এলিয়ন ম্যাগাপ্রভিন্স’। তো ‘দিবালোকে’ এসসি- টোয়েন্টি ফাইভ এটেনডিয়ার এলিয়ন যখন নিষ্ঠার সাথে পৃথিবী থেকে পাঠানো ইনটেনসিটি গ্রাফ অপারেটিং নিয়ে ব্যস্ত, অমনি সময় তার সিক্সটিন বেনোবাইট কনবিউডারের রাডারাইট লেসারো মিটারে একটা লাল রঙের ইনফো বারবার নির্দিষ্ট ডেনসিটিতে বিপ বিপ আওয়াজ দিতে থাকে। প্রথমে এটেনডিয়ার বিষয়টিকে তেমন আমলে আনেননি।
কিন্তু কয়েকবার যখন একই ঘটনা ঘটতে থাকে তখন টান টান উত্তেজনা নিয়ে এটেনডিয়ার ওই অংশটুকুর একটা মাইক্রো রিডিং ডাউনলোড নিয়ে নেন। তারপর কী মনে করে ইনটেনসিটি গ্রাফের অটো রান দিয়ে তাকে সিসি রেকর্ডিং-এ রেখে তিনি ডাউনলোডটির রিভিউ দেখতে শুরু করেন। অমনি তার সামনে পরিষ্কার হয়ে যায় এর রহস্য। ফলে উত্তেজনায় প্রথমত কাঁপতে থাকে এলিয়নের হাত। এক সেকেন্ড দুটো চোখ বন্ধ করে একটু ভাবেন। তারপর বিপুল উৎসাহ আর কৃতিত্বের দর্প নিয়ে ছুটে চলেন তার বিগবস মেমোন্টিয়ারের চেম্বারের দিকে। দুই. এটেনডিয়ার এলিয়ন হাঁপাতে হাঁপাতেই মেমোন্টিয়ার এলিয়নের টিউবচেম্বারে ঢুকে পড়েন।
কিন্তু মেমোন্টিয়ারের রুক্ষ কঠিন চেহারা আর দপ দপ করে জ্বলতে-নিভতে থাকা লাল টকটকে চোখের দিকে তাকিয়ে থ হয়ে যান। মেমোন্টিয়ারের রুক্ষ কঠিন চেহারা দেখে এটেনডিয়ার এলিয়নের মুখ থেকে টুঁ শব্দটিও বেরোয় না। পরিস্থিতির কারণে তার মাথার পেছন থেকে সেভেন্থ জেনারেশনের সুপার সেনসেটিভ অ্যান্টেনার ইঞ্চি তিনেক বেরিয়ে আসে। অ্যান্টেনা তার ব্রেনের সেন্সর ডিভাইসে একটা জটিল সঙ্কেত পাঠাতে থাকে। সঙ্কেতটা এলিয়ন ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। তার মনে হয়, একটা চুম্বকীয় শক্তি তার পা দুটোকে টিউবচেম্বারের ফ্লোরের সাথে আটকে দিয়েছে। এখন পেছনে হটে চেম্বার থেকে যে বেরিয়ে যাবেন সে শক্তিটুকুও পাচ্ছেন না। হঠাৎ তার চোখে চোখ রেখে কটমটে দৃষ্টি ফেলে মেমোন্টিয়ার উঠে দাঁড়ান। বেশ খানিকটা সময় ধরে এটেনডিয়ারের মাথা থেকে পা অবধি পর্যবেক্ষণ করেন। তারপর ফিক করে একগাল হেসে আবার বসে যান নিজের আসনে। মেমোন্টিয়ারের এমন অদ্ভুত আচরণের আগামাথা এটেনডিয়ারের বুঝে আসে না।
তিনি বোকার মত একটা আসন টেনে ধীরলয়ে বসতে বসতে বললেন, স্যার, আমার ব্রেনের ডিভাইস সম্ভবত ঠিকমত কাজ করছে না। নাহলে… তার আর কিছু বলা হলো না। মেমোন্টিয়ার শান্ত কণ্ঠে বললেন- ডোন্ট ওরি মাই ডিয়ার। তোমার ব্রেনের ডিভাইস ঠিকমত কাজ করছে বলেই ইনটেনসিটি গ্রাফের কাজটা অটোরানে রেখে সিসি রেকর্ডিংয়ে ছেড়ে আসতে পেরেছো। নইলে আজ তোমার চাকরিটা আর বাঁচানো যেত না। তবে তুমি এখানে না এলেও চলতো। আমি ইতোমধ্যেই প্লানেট ওয়েভ থেকে তোমার কাছে পাঠানো ইনফরমেশনটার বিস্তারিত জেনেছি। আর সেজন্য যা ব্যবস্থা নেবার সেটাও নিয়ে সেরেছি। শুধু অপেক্ষা করছিলাম মহামান্য প্রিমিয়ার কখন সময় বরাদ্দ করেন। এটেনডিয়ার এলিয়ন এবার উৎসাহ নিয়ে প্রশ্ন করেন- স্যার, মাইক্রো রিডিং থেকে যা বুঝলাম মানব সভ্যতার ইতিহাসের একটা বিতর্কের অবসানে এটা আমাদের কাজে আসবে। – তা আসবে বটে! তবে মানুষ তো। খুবই ঘোরেল প্রাণী। জেনে বুঝে সত্যকে অস্বীকার আর গোপন করতে ওরা খুব পারঙ্গম। এক পলকেই অর্থ-বিত্ত আর ক্ষমতার কাছে নিজের মাথাটা বিক্রি করে দিতে আধা সেকেন্ডও ভাবনা করে না। সম্পদ এবং খ্যাতির লোলুপ আর কাকে বলে! –
কিন্তু স্যার, বিশ্বাসী মানুষ তো মোটেও ওদের মতো নয়। জীবন দেবে তো মিথ্যার কাছে মাথা নোয়াবে না। কোনো লোভ-লালসায় টলবে না। নিজে কোনো অন্যায় করবে না কিন্তু কোনো রকম অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ করবে। – রাইট! তুমি পারফেক্ট কথাটাই বলেছ। আসলে অবিশ্বাসীরাই লোভ-লালসায় টালমাটাল হয়ে পড়ে। – সে জন্যই তো ওদেরই পূর্বসূরি এক বশংবদ লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে প্রচার করে দিলো মানুষের পূর্বপুরুষ নাকি বানর ছিলো! – আরে, আর রেখে ঢেকে বলছো কেন? আমরা তো এরই মধ্যে সেই মূর্খ ডারউইনের সপ্তদশ উত্তরসূরি হ্যারিসন পটারকে ধরে এনে সাইজ করে রেখেছি। এদিকে আজকে ধরা দিয়েছে অবিশ্বাসী ভ্রান্ত মানুষদের আরেক গোদা রাফায়েল বার্তে। – ইয়েস স্যার, এই ইহুদি ব্যাটা দুনিয়ার বিশ্বাসী মানুষদের বিভ্রান্ত করতে গবেষণার ছলনায় একটা ডাহা মিথ্যাকে দুনিয়াজুড়ে চাউর করে দিয়েছে। তা হলো দুনিয়াতে মানুষের বসবাস নাকি কোটি কোটি বছর ধরে! – মূর্খ আর কাকে বলে! আসলে ওরা জেনে বুঝেই এসব করছে।
কারণ, ওরা যখন দেখতে পাচ্ছে দুনিয়ার বিশ্বাসীরা কেমন যেন আলসে কুড়ের বাদশাহ বনে গেছে। সৃষ্টি জগৎ নিয়ে গবেষণায় মনোযোগ দিচ্ছে না। গভীরভাবে পড়াশুনাও করছে না। বিশেষ করে বিশ্বাসীদের মাঝে মুসলিম জাতি এ ব্যাপারে আরও একধাপ এগিয়ে। গৎবাঁধা কিছু ইবাদত আর আরাম আয়েশ নিয়েই ব্যস্ত। ইহুদি-নাসারা আর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভেতরকার অবিশ্বাসীরা সে সুযোগটাই নিচ্ছে। দুনিয়াজুড়ে সৃষ্টিজগৎ সম্পর্কে ওদের খেয়াল খুশিমত ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে এসব আলসে কুড়েদের আরও কাবু করে দিচ্ছে। – অথচ বিশ্বাসীরা যদি একটু মনোযোগের সাথে কেবলমাত্র আল কুরআন রিসার্চ করতো, তাহলে অবিশ্বাসীদের সব বিভ্রান্তিরই দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে দিতে পারতো। – রাইট! তুমি যথার্থই বলেছো মিস্টার এটেনডিয়ার। – জি স্যার, আ’অ্যাম এসসি- টোয়েন্টি ফাইভ এটেনডিয়ার এলিয়ন ইন দিস ম্যাগাপ্রভিন্স। – ইয়েস, এসসি-টোয়েন্টি ফাইভ! সে কথাই বলছি। তবে এবার যখন অবিশ্বাসীদের পালের দুই গোদাকে পাকড়াও করে আনা সম্ভব হয়েছে তো, দুনিয়া থেকে আমাদের ম্যাগাপ্রভিন্সে বেড়াতে আসা বিশ্বাসী বন্ধু মিস্টার এসএমএম আকবরজির মাধ্যমে ওদের স্বীকারোক্তিগুলো দুনিয়ার মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যাবে। তিন. এতক্ষণ রাউন্ড প্লানেট টিউব রুমে বেশ আয়েশের সাথে বসে বসে আমি মিস্টার মেমোন্টিয়ার এবং মিস্টার এটেনডিয়ারের কথাবার্তা ভিজুয়ালি দেখতে এবং শুনতে পাচ্ছিলাম। তাতে বেশ মজাও পাচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে মেমোন্টিয়ারের মুখে আমার নামটা উচ্চারিত হওয়ায় একটু নড়ে চড়ে বসলাম।
দেখলাম প্লানেটের লেসার স্ক্রিনের মাধ্যমে মিস্টার এটেনডিয়ার এবার আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন- আস্সালামু আলাইকুম স্যার। আমিও ওয়ালাইকুম আস্সালাম বলে আরও একটু নড়ে চড়ে বসলাম। ততক্ষণে মোমেন্টিয়ার একটা ডিভাইসের মাধ্যমে তার টিউব চেম্বারের সাথে অতিথি টিউব চেম্বারকে জুড়ে দিয়েছেন। আমি এখানে পৌঁছা অবধি যতটা অবাক হয়েছিলাম এখন তারচেয়েও অবাক হতে হলো। দেখতে দেখতেই আমরা তিনজন এখন মুখোমুখি বসে আছি! এটা কেমন করে সম্ভব হলো, কিছু বুঝতেই না পেরে খানিকটা হতভম্ব হয়ে রইলাম। মোমেন্টিয়ার আমার মনোভাবটা হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি মুচকি হেসে বললেন, অবাক হচ্ছেন বন্ধু। সামনে আরও বিস্ময় অপেক্ষা করছে। আসলে বুঝতেই তো পারছেন, আমরা মানবজাতি থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে কতোটা অগ্রসর। কিন্তু মহান স্রষ্টার আদেশ তো আমাদের মানতেই হবে। তাঁর সৃষ্টি জগতের মাঝে আপনারাই হলেন শ্রেষ্ঠতম। সে কারণেই আপনাদের মাঝে যারা সব দেখে শুনে জ্ঞানপাপীর ভূমিকায় অবতীর্ণ তাদেরকে আমরা মোটেও পছন্দ করি না। দুনিয়াতে ওদের মাধ্যমে সত্যের যে অপলাপ হয় তাকেও আমরা প্রচন্ডভাবে ঘৃণা করি। শত বছর ধরে এসব মূর্খদের আমরা সহ্য করে আসছি। এবার আমাদের মহামান্য প্রিমিয়ারের হুকুম হয়েছে কিছুটা অ্যাকশনে যাবার। তাই আপনাকে দাওয়াত করে নিয়ে এলাম। আমাদের আদালতে যে বিচার কাজটুকু অনুষ্ঠিত হবে তার ফলাফল আপনি গোটা মানবজাতির কাছে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে পৌঁছে দেবেন। চার. এবার আমরা মানে আমি, মোমেন্টিয়ার, এসসি-টোয়েন্টি ফাইভ এলিয়নসহ আরও তিনজন এটেনডিয়ার মুখোমুখি বসেছি মাননীয় এলিয়ন সুপ্রিম আদালতে। এ আদালত দুনিয়ার আদালতের মত নয়। এখানে সর্বোচ্চ বিচারক হলেন খোদ মহামান্য প্রিমিয়ার! আর আসামিদের জন্যও আলাদা কোনো কাঠগড়া নেই।
সমান মর্যাদার ও সমান্তরাল অবস্থানে একটা রাউন্ডটেবিলের চারপাশ ঘিরে সাজানো আসনে সবাই উপবিষ্ট। তবে প্রিমিয়ারের আসনের পেছনে একটা সবুজ ফোকাস মৃদু আলো ছড়িয়ে রেখেছে, এই যা। একেবারে সিম্পল আদালত। দেখে মনে হচ্ছে একটা সুসজ্জিত রাজকীয় রাউন্ডটেবিল মিটিং অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। লক্ষ্য করে দেখলাম, আমার ঠিক অপর পাশে কিছুটা চিন্তিত হয়ে বসে আছেন দু’জন মানুষ। বুঝে নিলাম ওনাদেরকেই দুনিয়া থেকে তুলে আনা হয়েছে। তার মানে আজকের আদালতে ওনারাই আসামি। এমনি সময় মনপ্রাণ আকুল করা একটা মিষ্টি টোন সারাটি আদালত কক্ষজুড়ে ঝঙ্কার ছড়িয়ে দিলো। মেমোন্টিয়ারসহ সকলেই উঠে দাঁড়ালেন। আমিও দাঁড়িয়ে গেলাম।
মোমেন্টিয়ার বিনয়ের সাথে বললেন- আপনার দাঁড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই বন্ধু। আমাদের এই ম্যাগাপ্রভিন্সে বিশ্বাসী মানুষের সম্মান আমাদের মহামান্য প্রিমিয়ার থেকেও বেশি। মোমেন্টিয়ারের কথা শেষ হতেই আমাদের ডান পাশের দেয়ালটা বিলীন হয়ে ধোঁয়াশায় ভরে গেলো। আর সেই ধোঁয়াশার মাঝ থেকে বেরিয়ে এসে প্রথমে আসন নিলেন এলিয়ন প্রিমিয়ার এবং তার ডানের ও বামের আসনে বসলেন দু’জন সার্জেন্ট-অ্যাট-আর্মস এলিয়ন। তাদের পোশাক একটু আলাদা ধাঁচের। তাছাড়া দু’জনের চোখ থেকেই নীল রঙের আলো ঠিকরে বেরোচ্ছে। ধোঁয়াশা মিলিয়ে যেতেই পেছনের দেয়ালটা আগের অবস্থায় ফিরে এলো। অমনি মহামান্য প্রিমিয়ার দাঁড়িয়ে আমাকে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানালেন। এবার আমি আর না দাঁড়িয়ে পারলাম না। আমরা পরস্পর সালাম বিনিময়ের পর নিজ নিজ আসনে বসে গেলাম। এরপরই সবাই নিথর-নিশ্চুপ। মহামান্য প্রিমিয়ার টেবিলে রাখা একটা প্লাটিনামের তৈরি ঘণ্টায় ক্রিস্টাল কাচের হাতুড়ি দিয়ে মৃদু আঘাত করে বললেন- অর্ডার, অর্ডার। অমনি একজন সার্জেন্ট-অ্যাট-আর্মস দাঁড়িয়ে বললেন- মহামান্য আদালতের অনুমতিক্রমে আসামিদের নিম্নকক্ষ আদালতের দ্রুত বিচারিক বিবেচনার অধীনে মঙ্গলমান কোড থ্রিথার্টিটু আদেশের আলোকে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আমরা তা এখন মহামান্য আদালতে পেশ করছি। এই বলে তিনি তার বাম কানের চার মিলিমিটার নিচে সেট করা একটা বাটনে চাপ দিলেন।
সাথে সাথে তার মাথার খুলির একটা অংশ ল্যাপটবের মতো খুলে গেলো। আর সেখান থেকে নীলাভ আলোর রশ্মি ছড়িয়ে ষাট ইঞ্চি বাই পঞ্চাশ ইঞ্চি মাপের একটা লেসার স্ক্রিনের সৃষ্টি হলো। তারপর দু’বার বিপ বিপ শব্দ হতেই পুরো স্ক্রিন জুড়ে ফুটে উঠলো হাই রেজুলেশনের পরিষ্কার মুভি। তাতে দেখা যাচ্ছে, মিস্টার হ্যারিসন পটারকে ঘিরে আছে কয়েকটি বানর। একটি বানর তার ডান কান ধরে টানছে, আরেকটি বানর তার মাথার চুলে বিলি কেটে উঁকুনের সন্ধান করছে। অপর একটি বানর মাঝে মাঝে তার লেজের আগা দিয়ে হ্যারিসনের নাকে সুড়সুড়ি দিয়ে মজা করছে। আরেকটি বানর ঠিক পেছনের কাপড় ধরে টানাটানি শুরু করেছে। মনে হচ্ছে, বানরটা যেন মিস্টার হ্যারিসনের লেজ খুঁজে বেড়াচ্ছে। এসব দেখে আমার খুব হাসি পেলেও নিজেকে জোর করে গম্ভীর বানিয়ে রাখলাম। দেখলাম, বানরদের বাঁদরামিতে একপর্যায়ে মিস্টার হ্যারিসন অসহায়ের মতো বলছেন, প্লিজ এদের থামান। আমি আমার সব অপরাধ খুলে বলছি। সাথে সাথে তার কাছ থেকে বানরগুলো উঠে চলে গেলো।
তিনি বলতে লাগলেন- আসলে বিশ্বাসীদের দুনিয়ায় আমরা তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেই আমাদের ভাবগুরু ডারউইনের ভুয়া থিওরিকে রদ্দা পচা এবং স্রেফ মিথ্যাচার জেনেও তা প্রচার-প্রসারে নানাবিধ কৌশল চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সত্যি কথাটা হলো, শত বছরের নানাবিধ উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণা করে দেখা গেছে- বানর থেকে কখনোই মানবজাতির সৃষ্টি হয়নি। গবেষণার মাধ্যমে আমরা এটাই জানি যে, মহান সৃষ্টিকর্তা আসলে আদি মানব আদম থেকেই গোটা মানব জাতির সৃষ্টি করেছেন। আর এই ধ্রুব সত্যটাও জেনেছি বিশ্বাসী মুসলিমদের মহাগ্রন্থ কুরআন রিসার্চ করে। কারণ, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশাল ভান্ডার আল কুরআন হাতে পেয়েও ওসব বিশ্বাসীরা তার তেমন কদর করছে না।
সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আমরা রিসার্চের প্রধান অবলম্বন হিসেবে বেছে নিয়েছি কুরআনকে। ফলে মহাজাগতিক অনেক রহস্যই আমরা জেনে ফেলছি এবং নিত্য নতুন আবিষ্কারের সূত্রও সেখান থেকে পাচ্ছি। কিন্তু প্রকাশ্যে কুরআনকে আমরা স্বীকার না করে তার উল্টো শিক্ষাকে অপপ্রচার করেই লোক ঠকানোর কাজটা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এসব প্রচার-প্রপাগান্ডার পেছনে আছে খোদ ইসরাইল এবং দুনিয়ার তাবৎ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। ওরাই আমাদের এসব ঘৃণ্য ও অমানবিক মতবাদের প্রসারের জন্য কোটি কোটি ডলার সাহায্য দিচ্ছে। তবে এখন আমি আপনাদের হাতে বন্দি। তাই এসব কথা সজ্ঞানে ও অকপটে স্বীকার করতে কোনো আপত্তি নেই। কারণ, পৃথিবীর বিশ্বাসী মানুষতো আর আমার এই স্বীকারোক্তির কথা জানতে পারছে না। মনে হলো তার কথা শেষ। অমনি ব্যাস সিন আউট হয়ে গেলো মিস্টার হ্যারিসন পটার। আবার দুটো বিপ বিপ আওয়াজ। সাথে সাথে দেখা গেলো মিস্টার রাফায়েল বার্তেকে। তাকে দেখা গেলো বেশ কয়েকটি কুকুরের সাথে। কুকুরগুলো বেশ আয়েশ করে তার নাকে মুখে ইয়ে করে আর আলতো খামচাখামচির তোড়ে তাকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তিনিও বাধ্য হয়ে ‘যাহা বলিবো সত্যি বলিবো, সত্যি বই মিথ্যা বলিবো না’ বলে আকুতি জানানোর পর বেশ শান্তশিষ্ট ভদ্রলোকের মতো কুকুরগুলো তার কাছ থেকে চলে গেলো।
তিনিও বলতে শুরু করলেন- মিস্টার হ্যারিসন পটার আপনাদের কাছে কী জবানবন্দি দিয়েছেন জানি না। তবে আমি সজ্ঞানে, অকপটে সব সত্যকেই জবানবন্দি হিসেবে তুলে ধরবো। আসলে আমি তো নিজেই ইহুদির সন্তান। আমাদের সম্প্রদায়গত একটা এমবিশান হলো- মানব সৃষ্টির ইতিহাসকে বিকৃত করতে পৃথিবীতে মানুষের আগমনের সময়টাকেও বিতর্কিত করে ফেলা। যাতে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এতোটা দূর অতীতের দিকে ঘুরিয়ে দেয়া যায় যে, তারা কুরআনের মতে আদম সৃষ্টির ইতিহাসকেও অবিশ্বাস করতে থাকে। সে দিকটাকে স্মরণে রেখে আমরা রিসার্চের নাম করে যুগে পৃথিবীতে মানুষের আগমনের কালটাকে কোটি কোটি বছর পিছিয়ে নিতে নতুন নতুন ও একবারে তরতাজা ভুয়া তথ্য তুলে ধরার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে আদমের পৃথিবীতে আগমনের সময় থেকেই দুনিয়াতে মানুষের বসবাস শুরু হয়েছে।
আমরা আদমের দুনিয়াতে অবস্থান, তার পরবর্তী নবী-রাসূলদের দুনিয়াতে অবস্থান এবং মুসলমানদের শেষ নবীর দুনিয়াতে অবস্থানের পবরবর্তী সময়কাল নিয়ে গবেষণা করে আমরা এ কথা প্রমাণ করতে পেরেছি যে, চলমান শতাব্দী পর্যন্ত দুনিয়াতে মানুষের বসবাসের বয়স মাত্র সাড়ে দশ হাজার বছর বা তার চেয়ে সামান্য বেশি। কিন্তু কোনোভাবেই তা কোটি কোটি বছর নয়। আসলে আদি মানব আদম থেকেই গোটা মানব জাতির সৃষ্টি করেছেন। আর এই ধ্রুব সত্যটাকে আমরা আবিষ্কার করতে পেরেছি বিশ্বাসী মুসলিমদের মহাগ্রন্থ কুরআন রিসার্চ করে। কিন্তু প্রকাশ্যে কুরআনকে আমরা স্বীকার না করে তার উল্টো শিক্ষাকে অপপ্রচার করেই লোক ঠকানোর কাজটা চালিয়ে যাচ্ছি। স্বাভাবিকভাবেই এখানে ইসরাইল সরাসরি ভূমিকা রাখছে। এ ব্যাপারে যাবতীয় লজিস্টিক সাপোর্ট ইসরাইল সরকারই দিচ্ছে। সেটা সরাসরিভাবে হোক আর অন্যান্য অবিশ্বাসবাদীদের মাধ্যমেই হোক। আর এর সাথে সব সময়ই সাম্রাজ্যবাদীরা সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। কারণ তাদের সামরিক ও বেসামরিক সকল ব্যবসা-বাণিজ্যে ইসরাইল হচ্ছে সবচাইতে নির্ভরযোগ্য অংশীদার। তবে এখন আমি আপনাদের হাতে বন্দি। তাই এসব কথা সজ্ঞানে ও অকপটে স্বীকার করতে কোনো আপত্তি নেই। কারণ, পৃথিবীর বিশ্বাসী মানুষতো আর আমার এই স্বীকারোক্তির কথা জানতে পারছে না। ব্যাস সার্জেন্ট-অ্যাট-আর্মস এলিয়নের লেসার স্ক্রিন থেকে তিনিও আউট হয়ে গেলেন।
সাথে সাথে বাটন টিপে এলিয়ন নিখুঁত আকৃতিতে ফিরে এলেন। এখন আর বুঝার উপাই রইলো না যে, একটু আগেও তার মাথার একটা অংশ থেকে এতোসব অবাক করা ঘটনা ঘটে গেলো। আমার বিস্ময় বেড়েই চলেছে। ভাবছি এরপর আবার কী কী ঘটতে পারে। এমনি সময় মোমেন্টিয়ার এলিয়ন সামনের টেবিলে রাখা কনফারেন্স মাইক্রো ফোনের বাটন টিপে তার চূড়ান্ত আর্গুমেন্ট দিতে শুরু করলেন। তিনি বললেন- মহামান্য আদালত! বিগত দেড় হাজার বছর পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের পর আপনার বরাবরে আমরা দুনিয়ার বিভ্রান্তিবিলাসীদের যে সুচিন্তিত রিপোর্ট পেশ করেছি তারই আলোকে আজ দুনিয়া থেকে তুলে এনে অবিশ্বাসীদের চলমান সময়ের দু’জন মুখ্য অপরাধীকে হাজির করা হয়েছে। আজকের আদালত তাদের এই জবানবন্দিকেই তাদের জন্য সর্বোচ্চ সাজা বিবেচনা করে তাদেরকে দুনিয়াতে ফিরিয়ে দেবার আদেশ প্রার্থনা করছে। যাতে তাদের বক্তব্য থেকেই দুনিয়ার বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসী সব সম্প্রদায়ের সামনেই মানবতার চিরশত্রু এই ঘৃণ্যচক্রের মুখোশটা খুলে যায় এবং দুনিয়ার মানুষ তাদের সত্যিকারের পরিচয় ও দুনিয়াতে তাদের বসবাসের প্রকৃত সময়কালটা জানতে পেরে ধন্য হয়। আপনার আদিষ্ট বিষয়ে আজকে আমাদের আর কোন বক্তব্য নেই মহামান্য আদালত, সর্বোচ্চ ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হোক এটাই আমাদের কাম্য। ব্যাস এইটুকু বলে মোমেন্টিয়ার বসে গেলেন। পাঁচ. এবার মহামান্য প্রিমিয়ার কী রায় দেবেন সে ভাবনায় আমার তো তখন বুকের ভেতরে হৃদপিন্ডটা টেনিস বলের মতো লাফাতে শুরু করেছে। দম বন্ধ করে রায়ের অপেক্ষা করছি। মহামান্য প্রিমিয়ার গম্ভীরভাবে অর্ডার অর্ডার উচ্চারণ করে আমাদের সতর্ক করলেন। তারপর ধীরে সুস্থে আসামিদ্বয়ের দিকে চুম্বকীয় দৃষ্টি ছুড়ে দিয়ে বললেন- আদালতে উপস্থাপিত চূড়ান্ত জবানবন্দি সম্পর্কে আসামিদ্বয়ের কোনো দ্বিমত আছে কি? সাথে সাথে প্রিমিয়ারের বাম পাশের সার্জেন্ট-অ্যাট-আর্মস দাঁড়িয়ে বললেন- মহামান্য আদালতের কাছে আসামি পক্ষের বিশেষ কোনো আর্জি নেই।
মহামান্য এলিয়ন প্রিমিয়ার এবার রায় পাঠ করতে শুরু করলেন। তিনি তার রায়ে বললেন- সকল তথ্য প্রমাণ ও বাদিপক্ষের উপস্থাপিত আরজি বিবেচনায় এনে মহামান্য আদালত এই মর্মে আদেশ প্রদান করছে যে, মানবজাতির জন্য অবমাননাকর যেসব বিভ্রান্তিমূলক থিওরি প্রচার এবং প্রকৃত সত্য গোপনের মাধ্যমে বিশ্বাসীদের সাথে ডারউইন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যারা ধারাবাহিক প্রতারণা করে আসছেন, চলমান সময়ে উপস্থিত আসামিদ্বয় সেই অপরাধী চক্রের নেতা। তাই মহামান্য সুপ্রিম এলিয়ন আদালতে রেকর্ডকৃত তাদের প্রদত্ত জবানবন্দি তাদেরই উপস্থিতিতে দুনিয়াবাসীর জানা খুবই জরুরি। এতে আসামিদ্বয়ের যে মনস্তাত্ত্বিক শাস্তি হবে আজকের আদালত সে শাস্তির আদেশই প্রদান করলো। অত্র সাজা কার্যকর করার নিমিত্তে আসামিদ্বয়কে পৃথিবীতে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমাদের পরমবন্ধু মিস্টার এসএমএম আকবরজিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হলো। এ জন্য তার হাতে মিস্টার হ্যারিসন পটার ও মিস্টার রাফায়েল বর্তেকে সোপর্দ করা হলো। এই আদেশ আগামী এক শ’ মঙ্গলমান ঘণ্টার মধ্যে পরিপালিত হবে। মহামান্য আদালতের রায় শুনে আমি খানিকটা ভড়কে গেলাম।
এই ঘৃণ্য পিশাচ তুল্য হ্যারিসন পটার ও রাফায়েল বর্তেকে আমি কেমন করে দুনিয়াতে ফিরিয়ে নিয়ে সামাল দেবো! তাহলে তো দুনিয়ার সব জায়েনিস্ট আর সাম্রাজ্যবাদীরা একজোটে আমাকে রুখে দাঁড়াবে!! না, না। এটা আমার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। মুহূর্ত কয়েক ভেবে অপারগতা প্রকাশ করে দাঁড়িয়ে বললাম- মহামান্য প্রিমিয়ার! এটা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। অমনি মাথায় একটা কিসের আঘাত লাগলো। মাথা ঝাড়া দিয়ে তাকিয়ে দেখি মাইক্রবাসের ছাদের সাথে মাথা ঠুকে আসলে আঘাতটা লেগেছে। সাথে সাথে পাশের আসনে বসা আমার প্রিয় ছোট শ্যালক আবু নাঈম মুচকি হেসে বললো- ওহে দুলাভাই, আমরা তো চলন নিয়ে বিয়ে বাড়িতে পৌঁছে গেছি।
আর আপনি বলছেন ‘সম্ভব হবে না’। কেন সম্ভব হবে না। আমরা যখন এসেই গেছি- তো বড় ভাইয়ার জন্য নতুন ভাবীকে নিয়ে রাত্র নামার আগেই আমাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে। তা আপনার মাথায় তেমন ঠোক্কর লাগেনি তো? ছোট শ্যালকের খোঁচা মারা কথাটুকু শুনে মাথাটা আরেকবার ঝাড়া দিয়ে বুঝতে পারলাম, বড় শ্যালক আবু নাসেরের বিয়ের চলনে আসতে গিয়ে মাইক্রোবাসের এসির আরামে মনে হয় খানিকটা তন্দ্রা এসে গিয়েছিলো। এরই মাঝে এলিয়েন ম্যাগাপ্রভিন্স বেরিয়ে এলাম! হায় সেলুকাস!! হ