
গতমাসের ঘটনা, হরতালের বন্ধে মেস থেকে বাড়ি গিয়েছিলাম আগের দিন। বিকেলে টিউশনি ছিল, তাই ভাবলাম… দুপরের আগেই মেসে যাই তারপর খেয়েদেয়ে বিকেলে টিউশনি করাতে যাব। বাড়ি থেকে বের হয়ে মোড়ে দাঁড়ালাম প্রায় ঘণ্টাখানেক, কোনো অটো রিকশার দেখা নাই… হাটতে শুরু করলাম… সামনে গেলে অটো পাবো এই ভরসায়। হাটতে হাটতে দুই কিলোমিটার হেটে উপজেলা সদরে চলে আসলাম কোনো অটো ছাড়াই… তারপর রংপুরের উদ্দেশ্যে একখানা অটোরিকশায় উঠে পড়লাম।।
আমার সামনের সিটে বসেছেন একজন মহিলা, তার পাশে একটা মেয়ে। কিছুদুর আসতেই হঠাৎ বিকট শব্দ… অটোর চাকা পাংচার! নামলাম… মিনিট বিশেক দাঁড়িয়ে থাকার পর আরেকটি অটো পেলাম… সেটাতে উঠলাম। পাশে বসা, মুরুব্বি গোছের যাত্রীর আজাইরা পাচাল শুনতে শুনতে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ে পৌছালাম প্রায় ঘণ্টা খানেক পরে… মামা, ভাড়াটা নাও…। ওমা, পনের টাকার ভাড়া নাকি বিশ টাকা। আবার আমাকে বলে কিনা কতদিন থেকে অটোতে উঠেন না? কি আর করার, দিয়ে দিলাম… মাথা চরম গরম হয়ে গেল…।
রিকশায় উঠব, এমন সময় ফোন বেজে উঠল… আমার পুরাতন প্রেমিকার ফোন।। অনিচ্ছা সত্তেও ফোনটা উঠালাম… আমাকে অবাক করে দিয়ে সে বলল, দেখা করতে পারবে? রাজি হলাম, কোথায়? -কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে… -রিকশায় করে কারমাইকেল কলেজে ঢুকলাম…। ওর সঙ্গে বসে গল্প করতেছি… এমন সময় পিছন থেকে ওর ভাই এসে হাজির, এসেই চিল্লাফাল্লা শুরে করে দিল… আমার মাথা এমনিতেই গরম ছিল… নাক বরাবর এক ঘুষি… রক্ত পরতে দেখে চলে এলাম… ভালোবাসার গুষ্টি কিলাই…।
মেসে এসে শুনি ম্যানেজার ভুল করে আমার মিল করে নাই…। মাথা আরও গরম, খাব কি এখন? মানিব্যাগের স্বাস্থও খারাপ… কি আর করার… হোটেল এ গেলাম… ভাত আর ডিম…। বিল শুনে তো মূর্ছা যাওয়ার মত অবস্থা…। ভাত আর ডিম, বিল ৯০ টাকা…(হরতাল কিনা?)…। নিজেকে সামলিয়ে মেসে ফিরছি আর ভাবছি… পকেটে এখন ১০ টাকা, টিউশনিতে যেতে লাগবে ২০ টাকা… ভাবতে ভাবতে মেসে চলে আসছি, আর গেটের সাথে মাথার বাড়ি খেলাম… সবকিছু অন্ধকার… চোখ খোলার চেষ্টা করছি…।
কিন্তু পারছি না… অনেক চেষ্টার পর চোখ খুললাম… দেখি আমি বিছানায়, ফ্যান ঘুরছে তারপরও আমার সারা শরীর ঘেমে গেছে…। আর পাশের রুমে গান বাজতেছে…” আমার স্বপ্ন গুলু কেন এমন স্বপ্ন (না দুঃস্বপ্ন) হয়?” যাক, তাহলে স্বপ্নই দেখতেছিলাম… বড় বাঁচা বাঁচে গেছি… বাস্তবে হলে তো ………কি করতাম জানিনা?