শীতল শহরে যাচ্ছে, উদ্দেশ্য পড়াশোনা। ইন্টারমেডিয়েট শেষ করতে হবে। সালমা খাতুন ব্যাগ হাতে তার পিছু পিছু আসছে, মা, আর আসতে হবেনা, ব্যাগ দাও, এই বলে পা ছুঁয়ে মাকে সালাম করল শীতল। সে সদ্য এস,এস,সি পাশ করেছে, তার বাবা নেই, মা ই সংসারের সব, বাবার পেনশনের টাকায় সংসার চলে। তার দু’বোন আছে, একটা পড়ে ক্লাস এইটে, অন্যটার তিন বছর, শীতল রিক্সায় উঠল, তার মা তার দিকে তাকিয়ে আছে, বুকে ছাপা কন্না, মনে হচ্ছে ছেলে অনেক দূর চলে যাচ্ছে, সালমা খাতুন সহজে কান্না করেনা, কান্নার স্বভাব তার নেই, তবে আজ তার কান্না আসছে। বাস স্ট্যান্ডে এসে রিক্সা থামল। শীতল রিক্সা থেকে ব্যাগ দুটো হাতে নিল, এরপর বাসে, বলাকা নামের যেই বাস এই রুটে যায়, সেই বাসে উঠল সে, টিকিট অবশ্য আগের দিন কাটা ছিল। বাস ছাড়ল ৯ টা ৩০ মিনিটে। অলংকার এসে থামতে থামতে বেলা ১২ টা ৪৫ মিনিট। ঘড়ি থেকে চোখ সরিয়ে নিল সে, চিটাগাং তার কাছে অনেক আপন লাগছে, সে আগেও দু বার এই শহরে এসেছে তবে এবারের মতো আনন্দ লাগেনি, হতে পারে এবার স্থায়ীভাবে থাকার জন্য এখানে এসেছে তাই এই অনুভূতি।
এই chg আগ্রাবাদ যাবে, কাটা বট গাছের মোড়, কত? সিএন জি ওয়ালা বলল, পঞ্চাশ টিয়া, শীতলের প্রথমে বুঝতে সমস্যা হল, শেষ পর্যন্ত বুঝে নিল, চল্লিশ টাকায় যাবে, না, পঞ্চাশ টিয়া। যাই হোক শীতল দু’টা ব্যাগ নিয়ে CNG তে উঠল। এখান থেকে অবশ্য বাসেকরে যাওয়া যায়, ভাড়া ১০ কি ১৫ টাকা। তবে শীতল বাস নম্বর জানেনা। তাছাড়া তার সাথে মালপত্র, এগুলো নিয়ে বাসে উঠাই দুরুহ। তার পর কাটা বট গাছের মোড় পর্যন্ত বাস যাবেনা, তাকে নামতে হবে কদমতলী।হাতে টাকা আছে, খরচ করতে সমস্যা কী? কলেজে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে, নিয়মিত ক্লাস, তারপর কোচিং, রাতকে পড়াশোনা, রীতিমত ব্যস্ত শীতল। দুটো বই আর দুটো খাতা ব্যাগে পুরিয়েই ব্যাগ কাঁধে নিল শীতল, সে বাসে থেকে হেঁটে হেঁটে কলেজে যায়, সময় লাগে মাত্র দু’মিনিট।
কলেজে প্রতিদিন ঢুকতে লম্বা কৃষ্ণচূড়া গাছটা চোখেপড়ে তার। সে অবশ্য বৃক্ষপ্রেমী নয়, গাছ নিয়ে চিন্তা করার মত সময় তার নেই। বাড়িতে থাকতে অবশ্য প্রতিমাসেই ঘরের পিছনে কয়েকটি ফুলগাছ লাগাতো, তবে গাছ টিকত বড়জোর এক সপ্তাহ, এর মধ্যেই করিমের ছাগল টি তার গাছ সাবাড় করত। এই নিয়ে বাড়িতে দু’বার ঝগড়াও করেছে সে। দেখতে দেখতে পরীক্ষা চলে এল।পরীক্ষা দিল শীতল। সাংবাদিকদের সামনে সবাই মিলে দু আংগুল দেখাল রেজাল্ট দেওয়ার পর। আজ যেন সব জয় করে ফেলেছে তারা, মনে হয় লক্ষ কোটি আলোকবর্ষ দুরের নক্ষত্রও তাদের হাতের মুঠোয়। সারাদিন আনন্দ করে রাত ৯ টার দিকে বাসায় ফিরছে সে, কলেজতো শেষ এবার বিশ্ববিদ্যালয়। আবার…… পড়াশোনা। আজ এসব চিন্তা করা যাবেনা, আজ শান্তির ঘুম। পড়াশোনা আবারো শুরু করতে হলো। শীতলের সামনে বই।
প্রিন্সিপালস অব একাউন্টিং,weygandt, kieso & kimmel. ইন্টারে যা পড়েছে তার ইংরেজী ভার্সন, খারাপনা, এই, শীতল, ক্যাফেটেরিয়াতে আস, নিষাদ ভাই ডাকে। নিষাদ ভাই হলের সভাপতি, তার জন্মই বধ হয় রাজনীতি নামক আসুস্থ নীতিটাকে গ্রহণ করার জন্য, শিতল উঠে দাঁড়ায়, তার মত যারা হলের মধ্যে নতুন, তাদের সাথে পরিচয়ের জন্যই ক্যাফেটারিয়াতে আহবান। শীতল রাজনীতি পছন্দ করেনা, কিন্তু হলে থাকলে তাকে রাজনীতি করতেই হবে। তার কাছে অনেক টাকা হলে সে বাইরে রুম নিয়ে থাকবে, মনে মনে এটাই তার পরিকল্পনা। একে একে তিন চারজন নেতা বক্তৃতা দিল, যাকে বলে জ্বালাময়ী বক্তৃতা। নিষাদ ভাই মঞ্চে উঠল, তুমুল করতালি, অবশ্য অনিচ্ছাকৃত। নিষাদ ভাই একে একে সবার সাথে পরিচিত হলেন, বললেন, দেখ আমি আমার পরিচয় কী দিব, তোমরা আমাকে চিন, যারা চিনেনা তাদের চানার দরকার নাই। আমরা তোমাদের হলের সকল সুযোগ সুবিধা দিয়েছি, বিনিময়ে তোমরাও আমাদের কিছু দিবে, এই ধর মাসে দু,তিনটা মিছিল, আর কি। নেতার বক্তব্য শেষ, তবে রাত ১২ টা ১০ বাজে, পড়াশনার বারোটা বাজল। শীতলের চোখে ঘুম, এখন রুমে গিয়েই ঘুম দিতে হবে, কাল আবার ৯ টায় ক্লাস।
শীতল রুম থেকে বের হবে এমন সময় দরজা ফাঁক করে একজন বলল, এই মিছিল আছে, ভিসির বিরুদ্ধে তাড়াতাড়ি আয়, “আমার ক্লাস আছে” এ কথাটা বলতে গিয়েও বলতে পারলোনা সে। সভাপতি নবম মিটিং এ স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, হলে থাকতে হলে মিছিলে যেতে হবে। ব্যাগ ফেলে দিয়ে রুমের দরজা অফ করল সে, হাঁটা ধরল মিছিলের দিকে, সারাদিন চলল মিছিল, একপর্যায়ে ভিসির কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হলো। বিকাল ৪ টা। রুমে আসল শীতল, আজ কিছু খাওয়া হয়নি তার, খুব ক্ষিধে পেয়েছে, গোসল করে গেল ডাইনিংয়ে, ডাইনিংয়ে কিছুই পেলনা, বিকাল সাড়ে চারটায় পাওয়ার কথাও নয়। মসজিদ থেকে ভেসে আসছে মাগরিবের আযান, একসময় শীতল অনেক নামায পড়ত, এখন পড়েনা, এখন তার দু’আংগুলের মাঝে থাকে সবসময় সিগারেট। ফোর্থ সেমিস্টার ফাইনাল সামনে, এই নিয়ে তার মাথাব্যাথা নেই, পরীক্ষার মাত্র একসপ্তাহ বাকী, Advanced Accounting বইটাই তার কালেক্ট করা হয় নাই।
আজ সুমাইয়াকে বলতে হবে, তার কাছে Advanced Accounting বই দুটা আছে, বিকালে দেখা হলেই বলবে তাকে। মোবাইল বাজছে, শীতল পকেট থেকে মোবাইল বের করল, সুমাইয়া কল করেছে। কিরে তোর কী খবর? শীতল চাপা গলায় বলল, কোন খবর নেই, ভিসির সাথে নিষাদ ভাইয়ের সমস্যা চলছে। কী সমস্যা? ঐ যে, নতুন যে হলটা হবে,তার টাকা নিয়ে সমস্যা? টাকা নিয়ে আবার কি সমস্যা? কৌতুহলী প্রশ্ন সুমাইয়ার। নিষাদ ভাই চাচ্ছে তাকে ২৫% টাকা দিতে হবে, ভিসি ১৫% এর বেশী রাজীনা। তার ওপর নিষাদ ভাই চায়, এই হলের প্রভোষ্ট হবে সোলায়মান স্যার, ভিসির এতেও আপত্তি, তার কথা প্রভোষ্ট হবে তার জামাতা লিটন আলী। তাহলে তো দেখি কঠিন সমস্যা। হুঁ গুরুতর। সন্ধায় ভিসির সাথে নিষাদ ভাইয়ের মিটিং আছে। তোকেও যেতে বলেছে, তাই না? হুঁ, মিটিংয়ে বনিবনা না হলে কাল থেকেই ক্যাম্পাসে মিছিলের পরিকল্পনা আছে, তোরা বিরাট ভ্যাকেশন পাবি।
ভ্যাকেশনের দরকার নেই, এমনিতেই ৬ মাস সেশনজটে পড়েছি। “জট” শব্দটা তো বাংলাদেশে অনেক পপুলার, এই ধর, যানজট, মানুষজট, সেশনজট, আরো কত কী…।। আচ্ছা শোন তোর কাছে যে Advanced Accounting বইটা আছে সেটা আমার লাগবে, কলকে নিয়ে আসিছ। কালকে আসব কোন দুঃখে, কাল না মিছিল। আহা, তা তো এখনো fixed decision না। আচ্ছা ঠিক আছে। ওকে, গুড বাই। রাতকে মিটিং ডেকেছে নিষাদ ভাই, রাহুলকে কথাটা বলেই দোতলা থেকে একতলায় নমল সে, রাত ১২ টায় শুরু হল মিটিং, ভিসি নিষাদ ভাইয়ের আবদার রাখেননি, কাল থেকেই ভার্সিটি অচল, সারাদিনের পরিকল্পনা করল ওরা, মিছিল, মিটিং, বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকা দাহ ইত্যাদি, প্যাঁচ জনের কাছে থাকবে রামদা, শুনেছি, ক্যাম্পাসে ভিসের পোষ্য একদল বেরিয়েছে, “তাদের রক্ত চুষে খাব আমি” নিষাদ ভাইয়ের জোরালো কন্ঠস্বর, রামদা পার্টির মধ্যে শীতলও আছে, তার হাতে রামদা তুলে দিল নিষাদ ভাই, বলল, তোরা তৈরী থাকবি, মিছিলে ভিসিপার্টি হামলা করলেই হলো……………………………।
রামদা হাতে হলের দিকে যাচ্ছে শীতল। ক্যাফেটেরিয় থেকে প্রায় ২০ ফুট ওপরে হল, লালমাই পাহাড়ের টিলাগুলোর প্রায় সবগুলোই ১৫-২০ ফুট। শীতলের হাতে রামদা, ঠোঁ টে সিগারেট, গায়ে একটা টি শার্ট, দুটো বোতামই খোলা, মাথায় এলো মেলো চুল। “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার , আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-আযানের শব্দ শুনেই হকচকিয়ে গেল সে, এত রাতে আযান দিচ্ছে কে, মোবাইল বের করল শীতল, প্রায় ৫ টা বাজে, সারারাত মিটিং্যে চলে গেল, বুঝতেও পারেনি সে, তাড়াতাড়ি গিয়েই কিছুক্ষণ ঘুমাতে হবে, হাঁটার গতি বাড়াল সে। মোবাইলের প্রচন্ড শব্দে ঘুম ভাংলো তার, চোখে মুছতে মুছতে মোবাইলের দিকে তাকায় সে, নিষাদ ভাইয়ের ফোন, তিনি ক্রুদ্ধ স্বরে চেছাচ্ছেন, এই, তুই কইরে, মারামারি শুরু হয়ে গেছে, রামদা নিয়ে তাড়াতাড়ি আয়, বলেই মোবাইল কেটে দিল নিষাদ ভাই। ‘ও মাই গড’- সকাল-১২ টা, ঘড়ি থেকে চোখ সরিয়ে নিল শীতল,বিছানার নিছ থেকে রামদাটা হাতে নিল, তার ভয় ভয় লাগছে, রামদা টা নিয়ে রুমের দরজা পর্যন্ত যেতে পারন সে, তারপর মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল, রামদাটা ঝন করে মেঝে তে পড়ে গেল।
সন্ধ্যায় রুমে ফিরল শীতল, পকেট থেকে মোবাইল বের করল, সারাদিন মোবাইল সাইলেন্ট ছিল, মা কল দিয়েছে চারটা, সুমাইয়া দু’টা। সে অবশ্য কখনো একসাথে দু’টা কলের বেশী দেয়না, তার ধারণা, দু’টা কলের বেশী দেওয়া মানে নিজেকে ছোট করা। জরুরী দরকার হলেই কেবল দু’টা কলের বেশী দেয়। Call back করতে হবে, প্রথমে মাকে, মার সাথে দু’তিন মিনিট কথা বললেই হলো, তারপর সুমাইয়াকে, মোবাইলের টাকা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কথা চলবে। ‘শীতল ভাই, রাতকে পুলিশ আসতে পারে, রুমে থাকা যাবেনা’। কেন? কি হইছে। আপনি জানেননা,- তিনজন মারা গেছে, ভিসি পক্ষের দু’জন, আর আমাদের একজন, আরো কয়েক জন হসপিটালে, ভিসে সাংবাদিকদের সামনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন, অলরেডী পাচ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে, আপনিও আছেন। হঁাপাতে হাঁপাতে কথা গুলো বলল রবি, সে শীতলের পাশের রুমে থাকে। কথাগুলো বলেই দৌড়ে চলে গেল সে, সম্ভবত হলের বাইরে, নিরাপদ আশ্রয়ে। শীতল টিভি রুমে আসল, টিভি রুমে অনেকেই আছে। সবাই তার দিকে কেমনভাবে যেন তাকালো, এ এক অচেনা দৃষ্টি। ATN NEWS এ খবর চলছে, রাষ্টিকেটেড হওয়া স্টুডেন্টদের ছবি দেখাচ্ছে, নাম, পরিচয় সহ।
পর্দায় ভেসে উঠল শীতলের ছবি, পাশে বিবরন, নামঃ মোঃ আব্দুর রহিম ডাকনামঃ শীতল ৬ষ্ট ব্যাচ, বিবিএ, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট শীতল টিভি রুম থেকে বের হয়ে গেল, নিষাদ ভাইকে কল দিল, নিষাদ ভাইয়ের ফোন বন্ধ, নিষাদ ভাইয়ের যতগুলো নাম্বার তার কাছে আছে, সবগুলোতে কল দিল, সব নাম্বার বন্ধ। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। মা কল দিয়েছে, শীতল কেটে দিল, পরপর পাঁচবার কল আর শীতল কেটে দেয়, শেষ পর্যন্ত মোবাইলই অফ করে দেয়। রাত ১১ টা। শীতল পুলিশের গাড়িতে, তার সাথে আরো সাতজন, নিষাদ ভাই নেই, গাড়ি যাচ্ছে ঢাকার দিকে, পুলিশের গাড়ি একটা না চারটা। তারা খুনের আসামি তাই বিশেষ নিরাপত্তা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শীতল। তার মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। অনেকদিক শেভ করেনা। তার ফাঁসির আদেশ হয়েছে। সে জেলখানায় ওয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে। সে জানে আর মাত্র বার দিন বাকী, তারপরই তার ফাঁসি। তার জীবনের পরিসমাপ্তি, মা অবশ্য এখনো চেষ্টা করছেন। হাইকোর্টে আপিলও করেছেন কয়েক বার।
এত টাকা খরচ করার জন্য অবশ্যই বাড়ীর জমিজমা বিক্রি করেছেন। সেদিন দেখা করতে এসে বলল, বাবা তুই চিন্তা করিসনা, তুই অবশ্যই ছাড়া পাবি। দেখা করতে এসেছিল সুমাইয়াও, তার বাবা-মাকে ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এই মেয়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকা এসেছে, তা তার চিন্তার বাইরে। সুমাইয়ার মুখ অবশ্য শান্তই দেখাচ্ছিল, সে শীতলের দিকে প্রথম কয়েক মিনিট ধরে তাকিয়ে রইল। শীতল অবশ্য তার দিকে তাকালনা। সে তাকাল নিজের হাতের দিকে। অনেকক্ষন কোন কথা হলোনা, সুমাইয়া কি জানি কিছুক্ষিন ভাবল, হয়তবা কিছু বলতে চায়, যাওয়ার বেলায় বলল, শীতল আসি, তুই কিছু বলবি? কিছুক্ষন চুপ থেকে শীতল বলল, আমি সেদিন মিছিলে যাইনি। সুমাইয়া শান্ত স্বরে বলল আমি জানি তুই ঐ দিন কল্লোলদের মেসে ছিল, সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে এসেছিস।যাই শীতল, আমার আবার সন্ধ্যার আগে কুমিল্লা ফিরতে হবে। একদিন সন্ধ্যায় এক পুলিশ এসে বলল, এই তোমার নাম শীতল না? হুঁঁ, তোমাকে নিয়ে তো প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে পত্রিকায়, তুমি কিছু জান? না।
এখানে পত্রিকা পাব কোথায়। লোকটা একটা পত্রিকার পাতা দিল, সম্পাদকীয়, তারা শীতলের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির প্রত্যাশী, বোধহয় শুধুমাত্র ফাঁসি তাদের মনে ধরেনি। শীতল বিস্মিত হলনা। তবে পত্রিকার তৃ্তীয় পাতায় চোখ পড়তেই সে বিস্মিত হল, মোটামুটি বড় হেডিং- “সে আমাদের দলের কেউনা-সভাপতি নিষাদ”, পুরো পড়ে সে জানল, শীতল নিষাদের দলের কেউনা, নিষাদ তাকে ভালো মতো চিনেওনা ইত্যাদি ইত্যাদি। শীতল বসে পড়ল, তার চোখে অন্ধকার, সে আবছা আলোয় দেখছে, তার মা দৌড়াচ্ছে হাইকোর্টের বারান্দায়, ভিসির বাসভবনে। আর সুমাইয়া তাদের তিনতলার বাসা থেকে জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে, দিগন্তের মাথায় যেখানে সূর্যটা ঠেকে আছে তাল গাছগুলোর মাথায়। ক্রমেই অন্ধকার বাড়ছে, দিগন্তে ডুবে যাচ্ছে সূর্য, শীতল হয়ে আসছে পুরো পরিবেশ, নাকি শীতল হয়ে আসছে শীতলের দেহ?