অহর্নিশ ভ্রুকুটি @ লিখা: মারুফা তামান্না

ডিভোর্স পেপারের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিলয়। কি করবে কিছুই বুঝতে পারছেনা। কলম হাতে নিলেই হাত কাঁপতে শুরু করছে তার। কলমটা ছুঁড়ে ফেলে দিল। পায়চারী শুরু করেছে। সে কখনো সিগারেট খায়নি।এমনকি এক বার টেস্টও করে দেখেনি। তবু বাইরে বেড়িয়ে পড়ল সিগারেট খাবে বলে। লেবু মামার টঙ্গের দোকানে গিয়ে থামল। চায়ের দোকানের ছোঁকড়া টা চিৎকার দিয়ে বলল, : মামা,মাথা গরম নাকি? : না। খুব শান্তিতে আছি। : আরে মামু, বিয়ের পর একটু আধটু হয় ই।দিমু নাকি একটা চা? লেবু না দুধ? : তুই আমাকে বিষ দে। : দাড়ান আজ আপনার জন্য আজ স্পেশাল চা দেই। মালাই চা। : এক কাজ কর মালাই এর বদলে মরিচ দিয়ে চা বানা। : মামা,মাথা ঠান্ডা করেন। : কথা না বলে এক প্যাকেট সিগারেট দে জলদি। সিগারেটের প্যাকেট নিয়েই বাসায় চলে আসল। লাইটার ছাড়া সিগারেটও জ্বালাতে পারছেনা সে। রান্নাঘরে গিয়ে ম্যাচের সন্ধানে খানিক শান্তি পেল। ছাদে গিয়ে প্রথম টানেই কাশি উঠে গেলো। সিগারেট ও টানতে পারেনা সে। নিজেকে বিরক্ত লাগতে শুরু করেছে তার।বিয়ের মাত্র দুমাস হয়েছে।

এখনই ডিভোর্সের কথা চিন্তা করতে হচ্ছে। দুটান দিয়েই যেনো প্রাণ ফিরে পেলো। নৈসর্গিক নেশার স্বাদ পেলো। ধোঁয়া উড়িয়ে দিচ্ছিল হাওয়ায়। যেনো যন্ত্রনা গুলোও উড়ে যাচ্ছে তার শরীর থেকে। টানা আটটা সিগারেট খেয়ে ছাদেই টান হয়ে শুরু পড়ল। রাত্রির ফোনে ধরাম করে উঠে বসলো সে। : হ্যালো। : তুমি এত খারাপ কেন? ঝগড়া করে নিজেই উধাও।আমাকে নিতে আসবেনা তুমি? ইচ্ছা হয় তোমার চুল গুলো টেনে ন্যাড়া করে দেই। : রাত্রি, তুমি আমাকে ভুলে যাও। আমি তোমাকে হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছি। : হায়রে আমার চান্দু,তুই সিগারেট খাইছিস? দাড়া তোর আজকে খবরই আছে। ফোন কেটে দেয় রাত্রি। আবার নিলয় ভাবতে শুরু করে।এই মেয়েটার সাথে ছয় মাসের পরিচয়ে প্রেম হয়। বিয়েও হয়। প্রেমিকা হিসেবেতো অনেক ভালই ছিল। তবে বিয়ের পর যেনো সব বদলে গেলো। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত ঝগড়াই চলে। কারণ কিছুই না। দৌড়াতে দৌড়াতে রাত্রি নিলয়ের উপর ঝাপিয়ে পড়ল।

বাচ্চাদের মত গোটা শতেক কিল ঘুসি দিয়ে শান্ত হয়। : তুমি একটা ইন্দুর।তুমি একটা বাজে ছেলে। ঘরে বসে জানালা দিয়ে মেয়ে দেখতে ভালো লাগে না?তোমাকে আমি পুলিশে দিব। : আচ্ছা দিও।আগে গায়ের উপর থেকে নামবে তো? আমার দম আটকিয়ে যাচ্ছে। : আগে বলো, আমাকে আনতে গেলে না কেন? নাকি নতুন মেয়ের সাথে টাঙ্কি মারছো? : প্লিজ আর না। আমি কিছুই করি নি। তুমি খুব ভালো করেই জানো। তারপরও এমন কর কেনো? : জানি না। ভালো লাগে তাই। : আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি বুঝো কি আমি তোমাকে ভালবাসি? : না। বুঝিনা। : জানো তোমার এই আচরণের জন্য আমি ডিভোর্স পেপার পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। : খুব ভালো। ডিভোর্স দিয়ে দাও।

নতুন মেয়ের সাথে ফুর্তি করবা? অনেক ভালো! আমি ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছি। : আহা! এনেছি বলেতো দিয়ে দিচ্ছিনা। কতটা কষ্ট পেয়ে আমি এটা করেছি বুঝেছো? বিয়ের আগে তো তুমি এমন ছিলে না? কি হয়েছে বলবে তো? : (কাঁদো গলায়) তুমি আমাকে আগে বলোনি কেন তোমার আগে রিলেশন ছিল? আমি তোমার ড্রয়ারে ওই মেয়ের সাথে ছবি দেখে ফেলেছি।তারপর থেকে আর তোমাকে সহ্য হয়না। : আমার তো কারো সাথে রিলেশন ছিলনা। তুমি কিসের কথা বলছো? : দাড়াও, আমি দেখাচ্ছি। দেখাতেই নিলয় হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দেয় অবস্থা। : এটা আমার ফুফাতো ভাই আর তার গার্লফ্রেন্ড। ওর চেহারা অবিকল আমার মত। দাড়াও ওর সাথে তোমার পরিচয় করিয়ে দিবো।

রাত্রি মুখ ফুলিয়ে কান্না শুরু করেছে। : আরে পাগলি তোকে ছাড়া আমি কাউকে ভালবাসিনা। আর ওই ডিভোর্স পেপারটা তোর জন্য আমি আনিনি। একজন লয়ারের কাছে কি ডিভোর্স পেপার থাকতে নেই? [ যদিও মিথ্যা আশ্বাস ছিল। তবু নিলয় মনে মনে সব ঠিক করতে চাইল।] : তুমি খারাপ। চূড়ান্ত খারাপ। আমি তোমাকে ভালবাসিনা। বলেই নিলয়কে জড়িয়ে ধরে রাত্রি। দুই মাসের অভিমান যেনো জড়ো হয়ে বৃষ্টি হয়ে ঝড়ছে রাত্রির চোখে। নিলয় আরো জোড়ে বুকের মধ্যে আগলে ধরে রাত্রিকে।সব কষ্ট যেনো নিমিষেই জলবাষ্প হয়ে উড়ে গেলো।

মমতাময়ী মা

জীবনের গল্প] এই ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক সারা পৃথিবীতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *