
ভাল পোষাক পরে ফুলবাবু হতে কার না ভাল লাগে ? দিলুর সে রকম কোন ইচ্ছে নেই । তবুও বাবার সঙ্গে দোকানে আঙ্গুল তুলে যেটা দেখাবে একটু নেড়ে চেড়ে মা আদর করে বলবেই -এটা অত ভাল লাগছে না , পাশের এইটা দেখ খুব সুন্দর । দিলু মাকে খুব ভালবাসত । মেনে নিত । পাশে দাদা বসে টিপ্পনী কাটত – ওকে জিজ্ঞেস করার কি আছে ও ভাল মন্দ বোঝে । দোকানদারও হেঁকে বলত – ছেলের পছন্দ আছে ? তবে ও ওর মত অনেক পরবে । এখন আপনাদের মত পরুক না । কি জানি বাবা তাতে কি বলতে সবাই হো হো করে হেসে উঠত । পাড়ার দোকান , চেনা দোকানি ঠিক গুছিয়ে বুঝিয়ে গুজেই দিয়ে দিত । আর কি সব কথা হত ? জামাটা প্যাক করার পর বাবার মাথা নীচু । দাদা উঠে পড়ত । মা অন্য কথা ভাবনায় ব্যস্ত । দোকানি খাতা খুলে লিখতে লিখতে যা বলত তা অনেকটাই গালাগালের মত । দিলু পরদিন তাতেই নতুনের গন্ধেই সেজে উঠত । মনের মধ্যে দোলা দিত । পাশের ভজা রতন মনি মুক্তা দেখত আর কি রকম করত । বেশ লাগত দিলুর । ভাল কি মন্দ ও সব বোঝার কি দরকার ? কতদিন পর পর এ রকম ঘটে যাওয়াটাই দিলু বেশ উপভোগ করে । আজ বাবার সেই অসহায়ত্ব বেশ নাড়া দেয় দিলুকে । সময়ে বদলায় নি বদলে যায় না সময়ের চিত্র । ফুলবাবু সাজ আরো বেড়েছে । কিন্তু দিলুর বাবার মত সবার মনে বেড়ে গেছে আরো বেশি অসহায়ত্ব ।