অপুত্রক রজনীকান্ত চেয়েছিলেন তিনি পটল তুলবার আগেই রুপমতীর জন্য কেউ অন্তত থাকুক। দূর্ঘটনায় পা হারাবার পর থেকে সে ভাবনাটা আর বেশি ভাবিয়ে তুলেছিল। ষোল-একত্রিশে বিয়ে হলে পরে পুরুষদের বোধহয় একটু আগেই অপসারিত হতে হয়। শরীরটাও মাঝে মাঝে সেরকমটাই জানান দেয়। নিজের জন্য না হোক রপমতীর মাথার উপর থেকে একটা ছাতা থাকুক। অনেকটা অপরাগ হয়েই সমাজের অপাংক্তেয় কোন এক সুফিয়াকে সারোগেসিওর জন্য ভাড়া করে নিলেন তিনি। রুপমতীকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন বলেই অতটা মায়া জন্মে গিয়েছিল। এতটা বছর কেটে গেলেও ঘরে আর একটা ঘোমটা টানা কারো আয়োজন করতে পারেননি।
দশমাস পর নিরবিচ্ছিন্ন ঘর যখন কান্নাঘরে পরিনত হলো তখন মনের ভেতর থেকে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করতে পেরেছিলেন রজনীকান্ত। মরে যাবার মত বয়েস না হলেও অজানা পাপে মৃত্যুভয়টা রোজ তাড়া করে ফিরত। নীচতলায় বসেই রজনীকান্তের মনে হতো চোখ দুটো তার পেরিস্কোপ হয়ে গেছে যেন তিনি ঠিক দেখতে পাচ্ছিলেন উপর তলায় বেড়ে উঠছে একমাত্র প্রতিভাসিত সন্তান।
নীচতলায় বসে দোকানদারি করেই ভেবেছিলেন একদিন চলে যাবেন কিন্তু প্রতীক্ষামান দিন ফুরিয়ে গিয়ে রুপমতীই একদিন হঠাৎ করে চলে গেল যে ভয়টা নিজেকে নিয়ে ছিল সেটা যে এভাবে পাল্টে যাবে তা বুঝে উঠতে পারেননি।
"আলোর পথ"-এ প্রকাশিত গল্পসমূহ ও লেখনী মূলত পাঠক, শুভাকাংখী এবং সম্মানিত আবেদনকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কনটেন্টগুলোর উপর আমরা কোনো মেধাসত্ত্ব (copyright) দাবি করি না। যদি কোনো গল্প, ছবি বা তথ্যের কপিরাইট সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার প্রশ্ন, সংশয় বা আপত্তি থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে আমাদের যোগাযোগ পৃষ্ঠায় যোগাযোগ করুন। আমরা যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।